‘ধাওয়া খেয়ে’ ছাত্রদল নেতার মৃত্যু: যুবলীগ-ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে মামলা

অনিকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Nov 2022, 08:54 AM
Updated : 22 Nov 2022, 08:54 AM

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ‘যুবলীগের ধাওয়ায়’ পালাতে গিয়ে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় এক ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

নিহত ছাত্রদল নেতা অমিত হাসান অনিকের (১৮) বাবা আমির হোসেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করার পর নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাওসার আলম মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে অনিকের মৃত্যুর ঘটনায় তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছে থানা পুলিশকে। পাশাপাশি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

মামলার আসামিরা হলেন- রূপগঞ্জ উপজেলার মর্তুজাবাদ এলাকার বাদশা ভূঁইয়ার ছেলে ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাশেদ ভূঁইয়া (৪৩), পঁচাইখা গ্রামের আক্কাস মিয়ার ছেলে ভুলতা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল শিকদার (৪২), একই এলাকার অছু মিয়ার ছেলে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি শাহ্ আলম (৪২), বলাইখাঁ এলাকার আবু সিদ্দিকের ছেলে বাবু ওরফে কালাই বাবু (৩৫), পলখান এলাকার আরমান মিয়ার ছেলে রাসেল (৩০), আমলাব এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে শাহীন মিয়া (৪০), বেলদীর মৃত আনোয়ার মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর মোল্লা (৩০), পঁচাইখাঁ এলাকার আনর আলীর দুই ছেলে মো. ওবায়দুর (৩০), আলাউদ্দিন (৪৫), সিংলাব এলাকার মৃত মোতালেবের ছেলে মিজান (৪৫), টেক বলাইখাঁ এলাকার সিদ্দিকের ছেলে রাজীব (২৬), একই এলাকার জজ মিয়ার ছেলে রানা (২৩), মর্তুজাবাদ এলাকার হারুনের ছেলে রিফাত (২৭), পঁচাইখাঁ এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে ইমরান (৩২)৷ এছাড়া অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে৷

সাখাওয়াত হোসেন খান আরও বলেন, গত ৩ নভেম্বর ছাত্রদল নেতা অনিক হাসান মারা যান৷ এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় মামলা করতে চাইলেও মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ৷ বাদীপক্ষ ১৮ দিন পর আদালতে মামলার আবেদন করেন৷ মৃত্যুর ঘটনা এবং পরবর্তীতে কেনো মামলা গ্রহণ করা হলো না, সে সম্পর্কেও প্রতিবেদন চেয়েছে আদালত৷

“থানা পুলিশের প্রতিবেদন দাখিলের পর আদালত পরবর্তী আদেশ দেবেন৷”

মামলার আবেদনে বলা হয়, নিহত অনিক হাসান রূপগঞ্জ উপজেলার গাউছিয়া এলাকার ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের সিকিউরিটি গার্ড ছিল৷ তিনি কাঞ্চন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি ছিলেন৷ গত ৩ নভেম্বর ভুলতা ফ্লাইওভার রোডে ছাত্রদলের মশাল মিছিল শেষে অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন৷ সন্ধ্যা ৭টায় ভুলতা-কাঞ্চন হাইওয়ে রোডের মুন্সি পাম্প ও পুনাব প্রাইমারি স্কুলের রাস্তার মাঝখানে আসামিরা ধারালো রাম দা, ছেনি, লোহার, রড, হকিস্টিক ও পিস্তলসহ অনিক হাসানের উপর হামলা চালায়৷

তারা ধারালো চাপাতি দিয়ে অনিকের মাথায় কোপ দেয়, লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে এবং হকিস্টিক দিয়ে পেটায়৷ এ সময় অনিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বুকে পাড়া দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে চেপে ধরা হয়। পরে অনিককে টেনে-হিঁচড়ে চলন্ত ট্রাকের নিচে ফেলে দেয়৷ গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেদ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে সে মারা যায়।

থানায় মামলা না নেওয়ায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলেও বাদী মামলার আবেদনে অভিযোগ করেন।

ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে নিহতের বাবা আমির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমার একটা মাত্র ছেলে৷ আমার মতো কারও ছেলে যেন এভাবে না মরে সেজন্য সুষ্ঠু বিচার চাই৷”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক