‘অন্ধকার পথ’ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ৬৫ ‘চরমপন্থির’ আত্মসমর্পণ
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের সাতজন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং পাবনার ৪৫ জন রয়েছেন।
সিরাজগঞ্জ, রাজবাড়ী ও পাবনা জেলার ‘চরমপন্থি’ ও সর্বহারা দলের ৬৫ সদস্য ‘অন্ধকার পথ’ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় আত্মসমর্পণ করেছেন।
রোববার দুপুরে সিরাজগঞ্জে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ১২-এর সদর দপ্তরে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জের সাতজন, রাজবাড়ীর ১৩ জন এবং পাবনার ৪৫ জন রয়েছেন।
তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা এখনও ভুল পথে আছেন, তাদের আমি অনুরোধ করব, আপনারা এখনই সঠিক পথে চলে আসুন। আমরা কেউ জন্মগ্রহণ করেই সর্বহারা বা ‘চরমপন্থি’ হই না। বিভিন্ন কারণে আমরা ভুল পথে যাই। তাই আপনারা আজ যারা ভুল পথ থেকে সঠিক পথে এসেছেন, আপনাদের সঙ্গে আরও যারা আছেন, তাদেরও সঠিক পথে নিয়ে আসবেন।”
তিনি বলেন, “সরকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে যারা ভুল পথ থেকে সঠিক পথে ফিরেছেন, তাদের পুনর্বাসন ও আত্মনির্ভরশীল করার জন্য প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করছেন।”
প্রতিমন্ত্রী এসআরবির সদস্যদের আত্মসমর্পণকারীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ‘চরমপন্থার’ পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহীদের জন্য নতুন প্রকল্প চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আত্মসমর্পণকারী মো. মাজেদ আলী মুন্সী বলেন, অন্ধকারের পথ ছেড়ে আলোর পথে আসতে পেরে তার খুব ভালো লাগছে।
পাবনার আরেক আত্মসমর্পণকারী বাবু মিয়া ওরফে আইনুল হোসেন বলেন, “ভুল পথে চলতে গিয়ে অনেক কিছু হারিয়েছি। এভাবে জীবনের ১৫ বছর কেটে গেছে। সঙ্গীরা প্রায়ই বলতেন, অনেক দিন ধরে বাড়িতে যাওয়া হয় না।”
আলমগীর নামের আরেক আত্মসমর্পণকারী বলেন, একসময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র না পেয়ে আমাদের অনেকেই দস্যুবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়তেন।
এসআরবি ১২-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম, এসআরবির মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল ইফতেখার আহমেদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ এবং রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব শাহানা আখতার জাহান।
