ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে চুরি যাওয়া নবজাতক উদ্ধার, নারী আটক

ওই নারী নিজের হাতের আংটি বিক্রি করে ১৫ হাজার টাকা শিশুটির খালার হাতে দেন; পরে শিশুটিকে নিয়ে উধাও হয়ে যান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 Jan 2023, 05:27 AM
Updated : 13 Jan 2023, 05:27 AM

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতালে চুরি যাওয়া এক নবজাতককে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকাল সোয়া ৫টা পর্যন্ত এ অভিযান চলে। পরে সদর উপজেলার সিন্দুরা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় তানিয়া (২৩) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে। তিনি সদর উপজেলার সিন্দুরা গ্রামের নিয়াজ আহমেদের স্ত্রী।

শিশুটির স্বজনদের বরাতে ওসি জানান, সদর উপজেলার তেলিনগর গ্রামের নির্মাণ শ্রমিক ফরিদ মিয়ার স্ত্রী রেখা আক্তার তিনদিন আগে জেলা সদর হাসপাতালে ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। এই দম্পতির ঘরে আগেও এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে তানিয়া এসে নবজাতকের ঠাণ্ডা লেগেছে বলে রেখাকে জানায়। এ সময় নবজাতকটিকে নিজ খরচে ভালো চিকিৎসক দেখানোর আশ্বাসও দেন তানিয়া। রেখার স্বামী দরিদ্র হওয়ায় তিনি এ প্রস্তাবে রাজি হন।

এরপর রেখাকে ৫০০ টাকা দিয়ে ফল কিনে আনতে বলে এবং ছেলেকে চিকিৎসক দেখিয়ে আনার কথা বলে তাকে নিয়ে তানিয়া হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল নবজাতকটিকে উদ্ধারে অভিযানে নামে। পরে স্বর্ণের দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটজে দেখে এবং প্রযুক্তির সাহায্যে তানিয়াকে শনাক্ত করা হয়। এরপর বিকালে তানিয়ার বাড়ি থেকে নবজাতকসহ তাকে আটক করা হয়।

রেখা তার বোন তিশামনির বরাতে সাংবাদিকদের জানান, তানিয়া প্রথমে তার বোন ও নবজাতক ছেলেকে শহরের আমিন কমপ্লেক্স মার্কেটে নিয়ে যান। এরপর সেখানে একটি স্বর্ণালংকারের দোকানে নিজের হাতের আংটি বিক্রি করে ১৫ হাজার টাকা তিশামনির হাতে দিয়ে ছেলেকে নিয়ে উধাও হয়ে যান তানিয়া।

ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় পর উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান রেখা।

এ বিষয়ে জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায় মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই। তবু বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। যদি কারও গাফিলতি পাওয়া যায়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক