Published : 11 Nov 2025, 09:02 PM
নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন নিট পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
এ সময় তাকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে স্লোগানও দেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করে চলে যান এ ব্যবসায়ী নেতা।
মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে কলেজ মিলনায়তনে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডব্লিউএফ) এক উদ্যোক্তা সম্মেলন চলাকাললে এ ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
তবে ব্যবসায়ী নেতা হাতেমের দাবি, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
সরকারি তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়ার নেতৃত্বে মিছিলে কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আশিকুজ্জামান অনু, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইমাম হোসেন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, শিক্ষার্থী তুহিন আহমেদ, সজিব দাস এবং অলক কান্তি দাস উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। এর কিছুক্ষণ পর হাতেম সেখান থেকে উঠে চলে যান।
ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসমেন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (আইবিডব্লিউএফ) সাউথ জোনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম সারোয়ার সাঈদ বলেন, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্যোক্তা সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে তোলারাম কলেজসহ নারায়ণগঞ্জের আরও চারটি কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শহীদুল ইসলাম। এ ছাড়া মোহাম্মদ হাতেমসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

“আমরা অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিলাম। এ সময় ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে হাতেম সাহেবকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বলে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে চলে যান হাতেম”, বলেন সাঈদ।
তোলারাম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদ হাতেম ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারকে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলেছিলেন। আন্দোলনে এই কলেজের চারজন শিক্ষার্থী শহীদ হয়েছেন।
“হাতেম সেই শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি করে ফ্যাসিস্টের পক্ষ নিয়েছিলেন। খুনির পক্ষে থাকা তার মতো ব্যক্তি কলেজে কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন না। এটা শহীদ ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে অন্যায়। আমরা কলেজের শিক্ষার্থীরা তাই প্রতিবাদ করেছি।”
এর আগে ৪ নভেম্বর শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের এক অনুষ্ঠানেও তোপের মুখে পড়েন মোহাম্মদ হাতেম। ওইদিন হাতেমকে ‘গণঅভ্যুত্থানের শত্রু’ বলে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন। তাকে অনুষ্ঠানে অতিথি করা নিয়েও উষ্মা প্রকাশ করেন এনসিপির এ নেতা।
গত বছরের ৩ অগাস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গণভবনে ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে শেখ হাসিনার এক সভায় মোহাম্মদ হাতেম ছাত্র আন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ বলে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। সেই সময় সরকারের পাশে আছেন এবং সবসময় থাকবেন বলেও বক্তব্যে বলেন তিনি।
ঘটনার দুই দিন পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে হাতেমের দেওয়া সেই বক্তব্যের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়ায়। তবে চলতি বছরের মে মাসে বিকেএমইএর নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হন এ ব্যবসায়ী নেতা।
এ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “আমার মাধ্যমে স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হওয়ায় কোনো একটি মহলের প্ররোচনায় ছাত্ররা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। যারা হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে, তারা আমার সম্পর্কে জানে না, জানলে এমনটা করতো না।”
কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না দাবি করে এ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “আমার কাজ সরকারের সঙ্গে মিলে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে পলিসি নির্মাণ করা। বিগত সরকার আমাকে বিএনপি-জামায়াতপন্থি বানিয়েছে; আর এখন আওয়ামী লীগের দোসর বলা হচ্ছে।
“অথচ আওয়ামী লীগের দোসর হতে পারিনি বলে ওই সরকারের আমলে সভাপতি হতে পারিনি। কেননা ২০১০ সালে আমার সভাপতি হওয়ার কথা ছিল। আমি সভাপতি হয়েছি আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর।”