Published : 12 Jun 2026, 12:43 AM
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ‘মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায়’ এক স্কুল ছাত্রকে খুন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী নিহতের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার দেবিসিংহপুর গ্রামে স্কুলছাত্র আরাফাত হোসেন ফাহিমকে (১৬) কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের চৌমুহনী কাচারী বাড়ি মসজিদের সামনে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। এ সময় সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
ফাহিম বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে। সে চৌমুহনী পৌর হাজিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, “স্কুলছাত্র ফাহিমের মরদেহ বাড়িতে আনার পথে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

স্বজনরা অভিযোগ করেন, দেবিসিংহপুর গ্রামের হাজেরা দিঘির পেছনের একটি সেতুর উপর দীর্ঘদিন ধরে হারুন, জাহাঙ্গীর, আবুল খায়ের ও মমিনের নেতৃত্বে মাদকের ব্যবসা চলে আসছে। পাঁচ-ছয় দিন আগে মান্না নামে এক মাদকসেবীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে স্থানীয়রা। এরপর স্থানীয় কয়েকজন তরুণ মাদক বিক্রি ও সেবনের প্রতিবাদ করে ওই এলাকায় পাহারার ব্যবস্থা করে। এতে মাদকের আড্ডা বন্ধ হয়ে যায়।
আরাফাত হোসেন ফাহিমের নানার বাড়ি দেবিসিংহপুর গ্রামের বেলাল মাস্টার বাড়িতে। পাশাপাশি সেখানে তার খালার বাড়িও রয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় সে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে।
রাত ৮টার দিকে রিফাত (২০), সাকিব, ফাহিমসহ কয়েকজন বায়তুন আমান মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় হারুনের নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় ফাহিমের বুকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পাশাপাশি, রিফাতের হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় এবং সাকিবের ডান হাতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ফাহিমের বাবা মো. শাহজাহান বলেন, “ছেলেকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। আমার আর কিছু বলার নেই। আমি আমার ছেলেকে আল্লাহর কাছে আমানত করে দিলাম।”