১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে জমির বিরোধে প্রতিপক্ষের হাতুড়ি পেটায় বিধবা নারী নিহত

“বাবা মামলার ঘানি টানতে টানতে ১ বছর আগে মারা যান। ৬ মাস আগে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন।”

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Feb 2026, 10:15 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:50 PM

গোপালগঞ্জে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হাতুড়িপেটায় এক বিধবা নারী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার ছেলে। 

রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন। 

নিহত নাহিদা বেগম (৫০) নামের ওই গ্রামের মৃত শরিফুল ওস্তার স্ত্রী। তার ছেলে আহত মহিবুল্লাহ ওস্তা (২২) টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনজুরুল কবীর ওই নারীর ওই নারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, নিহত নারীর স্বামী শরিফুল ওস্তার সঙ্গে প্রতিবেশী কাদের ওস্তার দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। 

ছয় মাস আগে উচ্চ আদালত শরিফুল ওস্তার পক্ষে রায় দেন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন।  তার জেরে রোববার সকালে ওই জমিতে বেড়া দেওয়ার কথা ছিল শরিফুল ওস্তার পরিবারের।

শরিফুলের ভাতিজা মোহাম্মদ আরমান ওস্তা বলেন, এর মধ্যেই রোববার রাতে কাদের ওস্তা তার পাঁচ ছেলে- আব্দুল আলি, রাজু, ইয়াসিন, মিজান ও মানিকসহ কয়েকজনকে নিয়ে হাতুড়ি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার চাচার বাড়িতে হামলা চালায়। 

আরমান বলেন, তারা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে মহিবুল্লাহ ওস্তাকে মারধর শুরু করলে তাকে বাচাতে এগিয়ে আসেন তার মা নাহিদা বেগম। এ সময় হামলাকারীরা তাকেও হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। 

স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দুজনকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক নাহিদা বেগমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মহিবুল্লাহকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহিবুল্লাহ ওস্তা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে কাদের ওস্তা আমাদের জমি দখল করে রেখেছে। বাবা মামলার ঘানি টানতে টানতে ১ বছর আগে মারা যান। ৬ মাস আগে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। 

“এ নিয়ে শনিবার টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার আমার মাকে হত্যা করেছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মারধর করা হয়েছে।”

গোপালগঞ্জ ২৫০ বেড জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনজুরুল কবীর বলেন, “রাত পৌনে ১০টার দিকে নাহিদা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।”

 মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরোয়ার।