Published : 03 Mar 2026, 11:19 AM
শীত পেরিয়ে প্রকৃতিতে চলছে বসন্ত। কিন্তু ফাল্গুনের মাসের মাঝামাঝি এসে হঠাৎ কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে শেরপুরের জনপদ।
মঙ্গলবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত চলছে কুয়াশার রাজত্ব। এ সময় মাঝারি ও ঘন কুয়াশার কারণে সামান্য দূরের জিনিসও দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল না। ফলে সড়ক ও মহাসড়কে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন চলেছে ধীর গতিতে।
শেরপুরে কোনো আবহাওয়া অফিস না থাকায় অসময়ে কেন কুয়াশা এবং আবহাওয়ার সার্বিক গতি প্রকৃতি সম্পর্কে জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে স্থানীয়রা এর আগে ফাল্গুন মাসে এমন কুয়াশা দেখেননি বলেই মন্তব্য করেছেন।
গনই বড়ুয়াপাড়া গ্রামের ইন্তাজ আলী বলেন, “আইজকা রাত থাইকাই কুয়াশা পড়তাছে। ফাল্গুন মাস কোনদিন এবা কুয়াশা দেহি নাই। সেহরি থাইকা এরকম কুয়াশা পড়তাছে। একটু দূরেও কিছু দেয়া যায় না।”

একই এলাকার জয়নাল ও সোহরাব বলেন, ফাল্গুনের মাঝামাঝিতে এমন কুয়াশার কারণে একটু শীতের পরশ লাগছে, আবার গরমও করছে। একদিকে বৃষ্টির ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে।”
অসময়ে এ ধরনের কুয়াশাকে রোগ-বালাইয়ের লক্ষণও বলছেন অনেকে।
শেখহাটি মহল্লার বাবুর্চি বিল্লাল মিয়া মঙ্গলবার সকালে বলেন, “বেলা বাজে আটটা এহনো ব্যাপক কুয়াশা পড়তেই আছে। শীতও করে আবার গরমও করে। এ রহম আবহাওয়ার কারণে মানুষের সর্দি জ্বরসহ নানা ধরনের রোগবালাই হইতাছে।”
মঙ্গলবার ভোরে ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশার মাখামাখিতে শেরপুরে এক অন্য রকম প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজ করায় অনেকেই একটু বিস্মিতও হয়েছেন।
গনই মমিনা কান্দা গ্রামের শ্রমিক ইউসুফ আলী বলেন, “সেহরি খাইয়া শুইছি। সকালে ঘুম থাইকা ওইডা দেখি প্রচুর কুয়াশা। কুয়াশার জ্বালায় কিচ্ছু দেহা যাইতাছে না।”
একই গ্রামের সুলতান মিয়া বলেন, “সেহরি খাওয়ার পর থাইকা কুয়াশা দেখতাছি। এখন সকাল ৯টা বাজে কুয়াশা কমতাছে না। বৃষ্টি বৃষ্টি ভাব।”
ঘন কুয়াশার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।

পথচারী সুলতান মিয়া বলেন, “আইজগা কুয়াশার চাপ একটু বেশি। একটু দূরের জিনিসও দেহা যাইতাছে না। শীত শীত লাগতাছে। আবার গরমও করে।”
অটোরিকশা চালক সুজন মিয়া বলেন, “সকাল বেলা ওইট্টা দেখি খুব কুয়াশা। সামান্য দূরের জিনিসও দেহা যায় না। গাড়ি চালানো খুব মুশকিল। ফাল্গুন মাসে এবা কুয়াশার আর দেহি নাই । ”
পাকুরিয়া এলাকার কর্মজীবী নারী অজুফা ও জয়তুম বলেন, ফাল্গুন মাসও এমন কুয়াশা দেখি নাই এবার দেহলাম কুয়াশার কারণে জার (শীত) করতাছে।
মান্দাখালি গ্রামের ঝর্ণা বেগম বলেন, “আজকে কুয়াশা একটু বেশি। রাস্তাঘাটে চলাফেরা করা মুশকিল হইতাছে। একটু দূরের জিনিসও দেখা যায় না। ”
আবার ফাল্গুন মাসের অনাকাঙ্খিত কুয়াশার দেখা মেলায় এটাকে ঋতুর বৈচিত্রতা বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।