Published : 30 Aug 2025, 01:01 PM
কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে ৩২ বস্তা টাকা। চার মাস ১৭ দিন পর ১৩টি দানবাক্স খুলে পাওয়া এসব টাকা এখন গণনা করা হচ্ছে।
এছাড়াও দানবাক্সগুলোয় পাওয়া গেছে বিপুল সোনা-রূপার অলঙ্কার ও বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
শনিবার সকাল ৭টায় মসজিদের দানবাক্সগুলি খোলা হয় বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান।
এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরীসহ বিপুল সংখ্যক সেনা, পুলিশ ও আনসার সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
পরে বস্তায় ভরে এসব টাকা নেওয়া হয় ওই মসজিদের দোতলায়। সেখানে মেঝেতে ঢেলে মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাসহ প্রায় সাড়ে চারশো মানুষ আইনশৃঙ্খলা বাহীনির কড়া নিরাপত্তায় টাকাগুলো গণনা করছেন।

জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যায় জানা যাবে টাকার পরিমাণ। তবে স্বর্ণালংকার ও বৈদেশিক মুদ্রার অর্থমূল্য পরে হিসাব করা হবে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ এপ্রিল মসজিদের দান বাক্সে পাওয়া গিয়েছিল ২৮ বস্তা টাকা। গণনা শেষে যার পরিমাণ দাঁড়ায় রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সেবার ৪ মাস ১২ দিন পর বাক্সগুলি খোলা হয়েছিল।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মসজিদের দানের অর্থ মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ পাগলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহ ছাড়াও জনকল্যাণমুখি বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়ে থাকে।
সুউচ্চ মিনার ও তিন গম্বুজ বিশিষ্ট পাগলা মসজিদ কিশোরগঞ্জের অন্যতম ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থাপনা। জেলা শহরের পশ্চিম প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে হারুয়া এলাকায় অবস্থিত তিনতলা মসজিদটি প্রায় চার একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত।
কথিত আছে, প্রায় পাঁচশত বছর পূর্বে বাংলার বারো ভুঁইয়া বা প্রতাপশালী বারোজন জমিদারের অন্যতম ঈশা খাঁর আমলে দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা নামক এক ব্যক্তি নরসুন্দার তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে ওই স্থানটিতে মসজিদটি নির্মিত হলে তার নামানুসারেই মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
পুরানো খবর...
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল রেকর্ড ৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা
পাগলা মসজিদের ১১ দানবাক্সে ২৮ বস্তা টাকা, চলছে গণনা