Published : 30 Sep 2025, 06:18 PM
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তার কক্ষে চেয়ারে বসে রোগী ভর্তি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সিকিউরিটি গার্ডের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।
ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) চিকিৎসক মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, “একজন সিকিউরিটি গার্ড কখনোই এ ধরনের কাজ করতে পারে না।”
সোমবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল কর্মকর্তার কক্ষে চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে চেয়ারে বসে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিকিউরিটি গার্ড তামিম হোসেন রোগী ভর্তি নিচ্ছেন। তবে ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারজেন্সি মেডিকেল কর্মকর্তা নিশাত সেখানে ছিলেন না।
দৃশ্যটি ধারণ করেন ময়মনসিংহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা শাখার সদস্যসচিব আলী হোসেন। ভিডিও ধারণের বিষয়টি টের পেয়ে সিকিউরিটি গার্ডসহ বেশ কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরেন। মোবাইলটি কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলেটের চেষ্টা করেন তারা। পরে ভিডিওটি ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের দেন আলী হোসেন।
তিনি বলেন, “অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে গিয়েছিলাম চিকিৎসক দেখাতে। জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখি চিকিৎসক নেই। তবে চিকিৎসকের পাশের চেয়ারে বসে একজন সিকিউরিটি গার্ড রোগী ও তাদের স্বজনদের পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি টোকেন লিখে দিচ্ছেন।
“বিষয়টি দেখে নিজের কাছেই খারাপ লাগে, পরে মোবাইল বের করে ভিডিও ধারণ করি। বিষয়টি তারা টের পেয়ে আমাকে ডিলিট করতে বেশ কয়েকজন আকড়ে ধরেন। তারা মোবাইল কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। পরে পরিচয় দিলে ছেড়ে দেয়।”

হাসপাতালের এমন অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ স্বরূপ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের হাতে পৌঁছে দেন আলী হোসেন।
সিকিউরিটি গার্ড তামিম হোসেন বলেন, “ঘটনার সময় ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার পাশের রুমে গিয়েছিলেন। এ সময় আমার এক বন্ধু রোগী নিয়ে আসেন। রোগীর ভর্তি টিকেট পূরণ করে দেওয়ার জন্য আমাকে অনুরোধ করলে নাম-ঠিকানা লিখে দিচ্ছিলাম।
“এ সময় সেখানে আলী হোসেন এসে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। আমি শুধু সহযোগিতা করেছি, এইটুকুই।”
‘সমাজ রুপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের’ সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, প্রায় ছয় জেলার মানুষের আস্থার জায়গা এই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেখানে নানান ধরনের অব্যবস্থাপনা; যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যেমন- হাসপাতালের ভেতরে কুকুরের অবাধ বিচরণ, সেসব ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এতে ময়মনসিংহের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
চিকিৎসকের পাশের চেয়ারে বসে সিকিউরিটি গার্ডের সেবা, এসব বন্ধ করতে হবে। মানুষের আস্থার জায়গাটি ধরে রাখতে কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হবেন বলে আশা ইমতিয়াজ আহমেদের।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাইনউদ্দিন খান বলেন, ঘটনার সময় দায়িত্বরত চিকিৎসক ওজু করতে গিয়েছিলেন। এই ফাঁকে সিকিউরিটি গার্ড ভর্তি টিকেটে নাম-ঠিকানা লিখেছেন। গার্ডের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।