Published : 14 Dec 2025, 12:17 PM
পঞ্চগড়ে শীতের প্রকোপ দিন দিন আরও জেঁকে বসছে। টানা চার দিন ধরে জেলায় তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই ঘোরাফেরা করছে।
উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল বাতাসে সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। তবে কুয়াশামুক্ত সকালগুলোতে ঝলমলে রোদের সঙ্গে দেখা মিলছে উজ্জ্বল সূর্যের।

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, রোববার সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডায় কাজে বের হয়ে বিপাকে পড়েন শ্রমজীবী ও ছিন্নমূল মানুষ।
তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি এলাকার পাথর শ্রমিক খোরশেদ আলম বলেন, “শীতের কারণে নদীতে নামতে পারছি না। এই ঠান্ডায় পানিতে নামলে হাত-পাও অবশ হয়ে আসে। পেটের তাগিতে তারপরেও কাজ করতে হয়।”
পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলারহাট ইউনিয়নের শিংরোড় এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, “শীতকাল আসলে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। প্রতিদিন ভোর হলেই ক্ষেত থেকে বিভিন্ন শাক-সবজি উত্তোলন করে বাজারে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে হয়।”
বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী এলাকার ভ্যানচালক আইজুল ইসলাম বলেন, “কয়দিন থেকে খুব শীত করতেছে। আমরা গরিব মানুষ কাজ না করলে তো ভাত জোটে না।
“তাই বাধ্য হয়ে শীতকে উপেক্ষা করে ভ্যান নিয়ে বাইরে বের হয়েছি।”
আবহাওয়া কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, “টানা চার দিন ধরে এ জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করছে।
“সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও নিচে নামতে পারে। ডিসেম্বরের শেষ দিকে শীত একেবারে জেঁকে বসবে। পাশাপাশি দিনের তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে নামবে।”
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, শীতের এই দুর্যোগে জেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হল শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবেই সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তার থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ অর্থ দিয়ে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।