Published : 28 Jan 2026, 09:00 PM
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দফা দাবিতে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের দপ্তরে প্রতীকীভাবে ‘মুলা’ ঝুলিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।
তাদের দাবিগুলো হলো- বাজেট বরাদ্দ পাশ করাতে ব্যর্থতা, ক্যাম্পাস নিরাপত্তায় পুলিশ বক্স স্থাপনে ব্যর্থতা, শিক্ষক সংকট নিরসনে নতুন শিক্ষক নিয়োগে ব্যর্থতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইডি কার্ডে অতিরিক্ত টাকা আদায়।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একের পর এক সংকট নিয়ে প্রশাসন শুধু আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। তাই ‘মুলা ঝোলানো’ আশ্বাসের প্রতিবাদে প্রতীকীভাবে মুলা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ সময় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাবিব, দাওয়াহ সম্পাদক মো. সোহেল রানা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মিশকাতুল আলম অলি, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. ইব্রাহিমসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মোহাম্মদ হাবিব বলেন, “এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আগের প্রশাসন যেভাবে শিক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে মুলা ঝুলিয়ে রাখত, বর্তমান প্রশাসনও একইভাবে বিভিন্ন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে কিছু ছাত্রনেতার পকেটে ভরে একই রকম আশ্বাস দিচ্ছে।
“আমাদের চার দফা দাবির কোনটিই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এই মুলা নিতে নিতে আমরা ক্লান্ত। তাই আজ প্রতীকীভাবে সেই মুলাই প্রশাসনকে ফিরিয়ে দিলাম। আশা করি এতে তাদের টনক নড়বে।”
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন,” শিক্ষার্থীদের কিছু দীর্ঘদিনের দাবি থেকেই এই প্রতিবাদ হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মূলত তাদের কয়েকটি চলমান (লংস্ট্যান্ডিং) সমস্যার কথা তুলে ধরতে চেয়েছে।
তিনি বলেন, “বাজেট বাড়ানোর বিষয়টি সরাসরি আমাদের এখান থেকে নির্ধারিত হয় না। এটি ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সংস্থার মাধ্যমে পরিকল্পনা ও অনুমোদনের মধ্য দিয়ে হয়। তারপরও বলতে চাই, চলতি অর্থবছরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট আগের তুলনায় কয়েক কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।”
শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “শিক্ষার্থীদের একটি বড় অভিযোগ ছিল শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে। আমরা ইতোমধ্যে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি। বিষয়টি বর্তমানে ইউজিসির অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে এবং গত কয়েক মাস ধরেই এই প্রক্রিয়া চলমান।”
নিরাপত্তা ইস্যুতে ভিসি হোসেন উদ্দিন বলেন, “ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি; ক্যাম্পাসে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা সম্ভব কি না, সেটি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।”
আইডি কার্ডে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, “আমাদের এখানে আইডি কার্ডের জন্য ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা অতিরিক্ত নয়। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা ভেবে আমরা চেষ্টা করছি-এই খরচ আরও কমানো যায় কি না।”
ভিসি হোসেন উদ্দিন বলছেন, “আগে বাইরে থেকে আইডি কার্ড তৈরি করাতে খরচ বেশি হতো। এখন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রিন্টিং করায় ভবিষ্যতে এই খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”