১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের ‘মাহা সাংগ্রাই’ উৎসব শুরু

“মারমা সংস্কৃতি লালন-পালন, উৎকর্ষ ও সুরক্ষার জন্য আমরা প্রতিবছরই এমন আয়োজন করি।”

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Apr 2025, 02:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:28 PM

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের মাহা সাংগ্রাই উৎসব শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা সদরের পানখাইয়া পাড়ার বটলতা এলাকায় উৎসবের সূচনা দিনে মারমা নৃত্যশিল্পীরা নাচ পরিবেশন করেন। পরে উদ্বোধন করা হয় তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘দ’ ও ‘আলারি’ খেলা ।

‘মারমা উন্নয়ন সংসদ’ মাহা সাংগ্রাই উৎসবের আয়োজক। খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার ও পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার বলেন, “সাংগ্রাইংয়ে যে উৎসব চলছে, এটির মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে যুক্ত হয়েছে। গোটা বাংলাদেশের জন্য এটি অনুকরণীয়।

“এখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মেলবন্ধন গড়ে উঠবে এবং সহবস্থান তৈরি হবে। এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি। আমরা যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, এই ধরনের উৎসব তাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।”

মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী বলেন, “মারমা সংস্কৃতি লালন-পালন, উৎকর্ষ ও সুরক্ষার জন্য আমরা প্রতিবছরই এমন আয়োজন করি। ছয়দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে আগামী ১৪ এপ্রিল ‘রি-আকাজা’ বা মৈত্রী পানি বর্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

“অতীত ইতিহাস মতে মারমাদের খুবই সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রয়েছে, সেটা বিকৃতি হচ্ছে। আমাদের সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে সমুন্নত ও ধরে রাখার জন্য এই প্রয়াস।”

‘মাহা সাংগ্রাই’ উৎসবে অংশ নিয়েছে মারমা নারী-পুরুষ, তরুণ-তরুণী ও শিশুরাও। এ সময় বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে আলারি ও দ খেলায় অংশ নেন তারা।  

এদিকে সাংগ্রাইংসহ বৈসাবি ও বাংলা নবর্বষ উদযাপন উপলক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জেলা পুলিশ।

মাহা সাংগ্রাই’ উৎসবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল। তিনি বলেন, “উৎসবকে কেন্দ্রকে করে পাহাড়ে প্রতিদিন শোভাযাত্রা, মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার আয়োজন চলছে।

“উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। বিশেষ করে অনুষ্ঠানস্থলে পুলিশের টিম থাকবে। এছাড়া উৎসব দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে যে পর্যটকেরা এখানে আসবেন, তাদের নিরাপত্তাও পুলিশ দেবে।”