Published : 28 Nov 2025, 06:17 PM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যা করেছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম।
নিহত সাদ্দাম হোসেন (৩৫) সদর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য। তিনি শহরের কান্দিপাড়ার মাইমলহাটির মোস্তফা কামাল ওরফে মস্তুর ছেলে। তার স্ত্রী এবং সাত ও দুই বছরের দুটি মেয়ে আছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দিপাড়ার বাসিন্দা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপ ও একই এলাকার বাসিন্দা সদর উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের মধ্যে সম্প্রতি বিরোধ চলছে।
এর জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্দিপাড়ার মাদ্রাসার রোডে পপুলার প্রেসের সামনে গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে শাকিল সিকদারকে বন্দুক হাতে গুলি করতে দেখা যায়। এতে তিন জন গুলিবিদ্ধ হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়।
এসব ঘটনার জের ধরেই মধ্যরাতে সাদ্দামকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে ধারণা তার পরিবারের।
সাদ্দামের বাবা মোস্তফা কামাল বলেন, “রাত দেড়টার দিকে সাদ্দাম বাসায় ভাত খাচ্ছিল। তখন দীলিপ, তার সহযোগী পলাশ ও বাবুল মিয়া এসে সাদ্দামকে ডেকে নিয়ে যান। পরে রাত ২টার দিকে সাদ্দাম গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে খবর পাই।”
তিনি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, কান্দিপাড়ার সংকর শাহবাড়ির পাশের খালপাড় নতুন সেতুর ওপরে গিয়ে দেখি, স্থানীয় দুজন গুরুতর আহত সাদ্দামকে উদ্ধার করতে তোলার চেষ্টা করছে। তাকে দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
সাদ্দামের বুকে গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে ছেলে হারানো এই বাবা বলেন, “দীলিপ হাসপাতালে এসেছিল। তার দাবি- ‘শাকিল পেছন থেকে গুলি করেছে।’ কিন্তু পেছন থেকে গুলি করলে বুকে কেন লাগব?”
মোস্তফা কামাল অভিযোগ করেন, “দীলিপ, বাবুল ও পলাশ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তারা প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এ কাজ করেছে।”
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দীলিপ বলেন, “সাদ্দাম সবসময় আমার সঙ্গে থাকত। আমি কেন তাকে খুন করব? আমি তাকে বাড়ি থেকে ডেকে আনিনি। সে আমার সঙ্গেই ছিল। পেছন থেকে আমাদের উদ্দেশ্য করে শাকিল ও তার লোকজন গুলি করে। আমরা দৌড়ে পালিয়ে যাই। তারা সাদ্দামকে গুলি করে হত্যা করেছে। তার পরিবার আমার বিরুদ্ধে কেন বলছে, বুঝতে পারছি না।”
এ বিষয়ে চেষ্টা করেও কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ওসি আজহারুল ইসলাম বলেন, “কে বা কারা এ কাজ করেছে এখনো জানা যায়নি। নিহত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তবে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
লাশ ময়নাতদন্তের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বলেও জানান ওসি।
আগের সংবাদ