১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পেঁয়াজের দামে ধস: উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় মানিকগঞ্জের চাষিরা

“দাম কম হতে পারে তাই বলে ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি! কৃষক বাঁচবো কেমনে?”

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Apr 2026, 07:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:22 PM

বাম্পার ফলন হলেও মানিকগঞ্জে পেঁয়াজের দাম তলানিতে নেমেছে। মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। এতে লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকরা বলছেন, একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দিতে হচ্ছে। অথচ এই টাকা জোগাড় করতে চার থেকে পাঁচ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই লাভ তো দূরের কথা, খরচই তুলতে পারছেন না।

জেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হরিরামপুর, শিবালয় ও ঘিওর উপজেলায় কন্দ (মুড়িকাটা) ও হালি পেঁয়াজের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে হরিরামপুরের বাল্লা ইউনিয়নের বৈকা, ভাদিয়াখোলা, সরফদিনগর, কৃষ্ণপুর ও মাচাইন গ্রাম, শিবালয়ের আরোয়া ও শিমুলিয়া এবং ঘিওরের নালী ইউনিয়নে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। 

পেঁয়াজের ফলন ভালো হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। 

মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, “মুড়িকাটা পেঁয়াজে দাম কম হলেও হালি পেঁয়াজে কৃষকদের লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। 

“আমরা সংরক্ষণের জন্য এয়ার ফ্লো মেশিন দিচ্ছি, যাতে তারা পরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন।”

কৃষকদের ভাষ্য, ভালো ফলনের আশায় এবার ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন তারা। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় সেই আশায় ভাটা পড়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

কোথাও কোথাও হালি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম মিললেও তা উৎপাদন খরচের তুলনায় খুবই কম। আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬ টাকা কেজি। 

হরিরামপুর উপজেলা বাল্লা ইউনিয়নের পোদ্দার পাড়ার জহির নামের এক কৃষক বলেন, “অনেক আশা করে পেঁয়াজ চাষ করছি। পেঁয়াজের আয়ে সারা বছর চলি। নয় মণ পেঁয়াজ নিয়ে আড়তে আসছি। কিন্তু দাম কম।” 

শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের পারাগ্রাম গ্রামের গোবিন্দ নামের কৃষক বলেন, “শ্রমিক সংকটের কারণে পেঁয়াজ তুলতে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে। একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা হলেও এই অর্থ জোগাড় করতে চার থেকে পাঁচ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।

“এটা বিক্রি করে শ্রমিকের টাকা দিতে হয়। আমাদের তো লাভ নাই, শুধু লস। ছয় টাকা করে পেঁয়াজ বেচছি।” 

ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের মাশাইল এলাকার কৃষক লালমিয়া বলেন, “দাম কম হতে পারে তাই বলে ৭ থেকে ৮ টাকা কেজি! কামলা খরচ ৮ থেকে ৯’শ টাকা। কৃষক বাঁচবো কেমনে। দাম বাড়লে কৃষকের জান বাঁচবো।” 

তিনি বলেন, “বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন কৃষকরা এতে করে আগামী মৌসুমে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।”