Published : 03 Mar 2026, 02:46 PM
ফরিদপুর শহরে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের দাবি মাদক ব্যবসায়ীকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার জের ধরে তাকে হত্যা করা হয়।
সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের স্টেশন বাজার এলাকায় যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম।
নিহত রাজু ওরফে বাটুল রাজু (৩৮) ফরিদপুর শহরের দুই নম্বর কুটিবাড়ী মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকার বাসিন্দা বাবলু কসাইয়ের ছেলে। রাজু বিবাহিত এবং দুই ছেলে-মেয়ের বাবা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী বেগমের জামাতা হৃদয় শেখ ও তার আরও চার-পাঁচ জন সহযোগী চাপাতি, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজুর ওপর হামলা চালায়।
এ সময় হামলাকারীরা রাজুর দুই পা ও ডান হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়।
এলাকাবাসী গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহত রাজুর মা ছবি বেগম বলেন, কিছু দিন পূর্বে শহরের স্টেশন বাজার সংলগ্ন লাশ কাটা বস্তি এলাকায় অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। অভিযানে তারা মাদক ব্যবসায়ী শিল্পীকে বিপুল মাদকসহ আটক করে।
ছবি বেগমের দাবি, শিল্পীকে আটকের ঘটনায় রাজু জড়িত- এমন সন্দেহের বশবর্তী হয়ে শিল্পীর মেয়ের জামাই হৃদয় শেখ সহযোগীদের নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
রাজুর ছেলে নীরব বলেন, হৃদয় ও তার সহযোগীরা তার বাবাকে ধরে আগে চোখেমুখে হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। এ সময় তার বাবা নিচে পড়ে গেল তখন তাকে কুপিয়ে জখম করে ও পায়ের রগ কেটে দেয়।
রাজুর বাবা বাবলু কসাই বলেন, “আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই, ফাঁসি চাই। ”
পুলিশ জানায়, নিহত রাজুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তিনি বলেন, “মাদক সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই রাজু হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ হত্যাকাণ্ডের মাস্টার মাইন্ড হিসেবে হৃদয় শেখ নামে যার কথা শোনা যাচ্ছে, সে একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিকবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।”
পুলিশ সুপার আরও বলেন, “এ বিষয়ে পুলিশের একাধিক টিম বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত সন্দেভাজন তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।”