Published : 03 Dec 2024, 06:28 PM
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার দুই ইউনিয়নের লোকজনের মধ্যে সংর্ঘষে অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে মহারাজপুর ও মোচনা ইউনিয়নবাসীর মধ্যে পাঁচ ঘণ্টা ধরে এ সংর্ঘষ চলে বলে মুকসুদপুর থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে বনগ্রাম বাজারের সরকারি জায়গা দখল করে দোকান ঘর তোলাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বনগ্রাম বাজার এবং আইকদিয়া গ্রামের আশপাশ এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
মহারাজপুর ইউনিয়নের বনগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী আলামগীর হোসেন মিয়া বলেন, “মোচনা ইউনিয়নের আইকদিয়া গ্রামের শওকত সিকদার, আসাদ সিকদার ও তার লোকজন বনগ্রাম বাজার এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে। মঙ্গলবার সকালে সেখানে তারা সেখানে দোকান ঘর তুলতে গেলে ইউনিয়নের লোকজন বাধা দেয়।

“এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় ইউনিয়নের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জড়ো হয়। এক পর্যায়ে তারা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বাজারের অনেক ব্যবসায়ী এ সময় আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।”
আদিল মোল্লা নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, “সকাল ১০টার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। কিন্তু ততক্ষণে সংঘর্ষ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ব্যর্থ হয়। এরপর উভয়পক্ষ সংঘর্ষ চালিয়ে যায়।”
পরে বেলা দুপুর ২টার দিকে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় বলে কামাল মুন্সী নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
নতুন করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে জানিয়ে ওসি মোস্তফা কামাল বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”