Published : 06 Oct 2025, 12:34 PM
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন বিহারে আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে দেশ জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনায় প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ পতকা উদ্বোধন, প্রদীপ প্রজ্জ্বালন, ফুলপূজা, বুদ্ধপূজা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধমুর্তিদান, সংঘদান, অষ্টপরিষ্কার দান ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পিণ্ডদান করেন ভক্তরা।
এই দিনটি ‘আশ্বিনী পূর্ণিমা’ নামেও পরিচিত। ধর্ম মতে, বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ি পূর্ণিমা হতে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই তিন মাস বর্ষাব্রত পালন করেন। আর এই বর্ষাব্রত পালন শেষে আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে তারা প্রবারণা করেন।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে খাগড়াছড়ির প্রতিটি বৌদ্ধ বিহার সাজানো হয়েছে। আয়োজন করা হয়েছে ধর্মীয় আলোচনা সভারও।

খাগড়াছড়ি জেলা সদরের ‘য়ংড বৌদ্ধ বিহারের’ অধ্যক্ষ ক্ষেমাসারা থেরো বলেন, বুদ্ধ সমাজের মধ্যে প্রবারণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন মাস বর্ষাবাসের পর এ প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করা হয়।
তিনি বলেন, “একে অপরকে ক্ষমা করা এবং মৈত্রী নিয়ে থাকাটাই হচ্ছে প্রবারণা। এক কথায় কোন হিংসা যাতে না থাকে, জগতের সকল প্রাণী যাতে সুখী হয় সেটিই প্রবারণার মূল উদ্দেশ্য।
“আজকে স্থবির-মহাস্থবির বরণ, পাশাপাশি বুদ্ধমূর্তি দান, অষ্টপরিষ্কার দান এবং চুড়াশি হাজার ত্রিপিটকের উদ্দেশ্যে চুড়াশি হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বালন করা হবে।”
প্রবারণা পূর্ণনাম উপলক্ষে বিহারে আসা সুমেধ চাকমা বলেন, “আমাদের ধর্মীয় প্রধান উৎসব প্রবারণায় হাজার প্রদীপ প্রজ্জ্বালন ও ফানুস উড়ানো হবে। আজকে থেকে পাহাড়ে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব শুরু হবে।”