১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সিরাজগঞ্জে আমন সরবরাহে অনাগ্রহ মিল মালিকদের

চলতি বছর আমন ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ২৮ টাকা এবং চালের মূল্য প্রতি কেজি ৪২ টাকা।

সিরাজগঞ্জে আমন সরবরাহে অনাগ্রহ মিল মালিকদের

ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Dec 2022, 10:36 PM

Updated : 04 Dec 2022, 10:40 PM

সিরাজগঞ্জ জেলার মিল মালিকদের মধ্যে খাদ্য বিভাগের সঙ্গে ধান-চাল দেওয়ার চুক্তিতে তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। 

ধান-চালে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে দাম বেশি এবং সরকারি বিলের ওপর ২% উৎস কর ধার্য করায় এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে বলে মিল মালিকদের ভাষ্য। 

চলতি বছর আমন ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ২৮ টাকা এবং চালের মূল্য প্রতি কেজি ৪২ টাকা। 

গত ২৬ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে মিলারের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত মাত্র একজন মিলার চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এ কারণে চুক্তির মেয়াদ ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। 

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ৯৭৭ মেট্রিক টন ধান এবং ৯ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধানের দাম ধরা হয়েছে প্রতি কেজি ২৮ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪২ টাকা। জেলায় মোট মিলের সংখ্যা ৪৪০। 

জেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বর্তমান বাজারে ধানের দাম বেশি। বাজারে পর্যাপ্ত ধানও নেই। চড়া মূল্যে ধান কিনে গুদামে চাল সরবরাহ করা সম্ভব নয়। এছাড়া এ বছর মোট বিলের উপর ২% উৎস কর ধরা হয়েছে। এ জন্য মিলাররা চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন না। 

এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম সাইফুল ইসলাম রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বলেন, বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ধানের মূল্য ১২শ থেকে ১৪শ টাকা। এ ধান ক্রয় করে চাল তৈরি, চাল শুকানো ও গুদাম পর্যন্ত পরিবহনে আরও কিছু টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া মোট বিলের উপর ২% উৎস কর ধার্য করায় মিলাররা সরকারি গুদামে চাল দিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। 

“আশা করছি শেষ সময়ে হলেও তারা চুক্তিবদ্ধ হবেন। তারপরই ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হবে।” 

এরপরও চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন কামারখন্দের মেসার্স পারভীন সেমি অটো রাইচ মিলের মালিক হাজী মনোয়ার হোসেন। 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যবসায়ে লাভ লোকসান হবেই। তাই খাদ্য বিভাগের সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়ানো উচিত মনে করেই আমি চুক্তি করেছি।” 

আরও পড়ুন:

আমন কেনায় দর বাড়িয়েছে সরকার  
নেত্রকোণা থেকে ২৬ হাজার টন আমন কিনবে সরকার