Published : 01 Mar 2026, 02:29 PM
নরসিংদীর মাধবদী উপজেলায় এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে ‘ছিনিয়ে নিয়ে’ হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেপ্তার সাত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
রোববার নরসিংদীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম জানিয়েছেন।
ওই আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্র ও শনিবার দুই দফায় গ্রেপ্তার সাত আসামির দশ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় তাদের আদালতে তোলা হয়।
এ সময় বাদীপক্ষের আইনজীবী স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালতে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। অপরদিকে, আসামিপক্ষের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হননি।
আসামিদের মধ্যে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় শুক্রবার রাতে গাজীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে নূরা এবং একই সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে হযরত আলীকে গ্রেপ্তার করে নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
বাকি আসামিরা হেলেন- আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, প্রধান আসামি নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, এবাদুল্লাহ ও গাফফার।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) রাতে নূরার নেতৃত্বে একটি চক্র ওই কিশোরীকে তার সৎ বাবার কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে মাধবদী থানার কোতালিরচর দড়িকান্দি এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মেয়েটিকে ১৫ দিন আগে ‘ধর্ষণ’ করা হয়েছিল বলে দাবি স্বজনদের। মেয়েটি তার মায়ের প্রথম পক্ষের সন্তান।
ওই কিশোরী মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত। তার সৎ বাবার বাড়ি বরিশালে।
মেয়েটির স্বজনদের অভিযোগ, ১৫ দিন আগে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে পাঁচ থেকে ছয়জনের একটি দল মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ‘ধর্ষণ’ করেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।
মেয়েটির সৎ বাবার ভাষ্য, বুধবার বিকালে মেয়েকে খালার বাড়িতে রাখতে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে বড়ইতলা এলাকায় নূরার নেতৃত্বে পাঁচজন তার কাছ থেকে মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। পরে স্বজনরা অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, বৃহস্পতিবার সকালে একটি সরিষা ক্ষেতে গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় মেয়েটির লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।

ওইদিন রাতে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে মামলাটি করেন বলে জানান মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন। তাদের মধ্যে সাত জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম বলেন, “মামলার এজহারের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত চারজন এবং মীমাংসার নামে বিচার কার্যে সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ সাত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর দশ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে বিচারক আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।”
পলাতক বাকি দুই আসামিকেও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভুইয়া সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মামলায় কোনো আইনজীবী আসামি পক্ষকে আইনী সহায়তা দেবে না, রাষ্ট্রপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, “পুলিশ আন্তরিক হয়ে মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দিলে ছয় মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
আরও পড়ুন:
'ধর্ষণ' ধামাচাপা দিতে হত্যা: মামলায় কী অভিযোগ, এলাকাবাসী যা বলছে
'ধর্ষণ' ধামাচাপা দিতে হত্যা: 'কেউ ছাড় পাবে না', নরসিংদীতে ডিআইজি
নরসিংদীতে কিশোরীকে বাবার থেকে 'ছিনিয়ে' হত্যা, ১৫ দিন আগে 'ধর্ষণ'
'ধর্ষণের' শিকার কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে 'ছিনিয়ে হত্যা': গ্রেপ্তার ৪