Published : 13 Sep 2025, 10:16 PM
নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্যে শেষ হওয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-জাকসু নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারায়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের নবনির্বাচিত জিএস মাজহারুল ইসলাম।
নির্বাচনের দুই দিন পর ঘোষিত ফলাফলে জিএস পদে জয়ী হওয়ার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।
মাজহারুল বলেন, “আমরা মনে করছি না যে, এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে; আপনারা দেখতে পাবেন, প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের ভোট দিয়েছেন।”
শনিবার সন্ধ্যায় ভোট গ্রহণের দুইদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
ভোটগ্রহণে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার অভিযোগের পর অধিকাংশ প্যানেলের বর্জন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটগণনার কাজের মধ্যে নির্বাচনি দায়িত্বে থাকা এক শিক্ষকের মৃত্যুর মত ঘটনা এ নির্বাচনে বিতর্কের জন্ম দেয়।
তবে মূল বিপত্তি ঘটেছে অভিযোগ থেকে মুখ রক্ষার জন্য ওএমআর মেশিনের বদলে হাতে ভোট গুনতে গিয়ে।
জামায়াত সংশ্লিষ্ট এক কোম্পানি থেকে ব্যালট পেপার ও ওএমআর মেশিন কেনার অভিযোগ উঠলে নির্বাচন কমিশন ভোট গণনার কাজটি মেশিনের বদলে হাতে করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর তা করতে গিয়েই ফল প্রকাশ করতে দুই দিন লেগে যায়।
মাজহারুল বলেন, “আমরা বলতে চাই, সমন্বিত শিক্ষার্থী জোটের বিজয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমগ্র শিক্ষার্থীদের বিজয়।আমরা মনে করি, আমরা সেদিনই চূড়ান্ত বিষয় অর্জন করব, নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করার মাধ্যমে যেদিন পরবর্তী জাকসু অনুষ্ঠিত করতে পারব।”

নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের আকস্মিক মৃত্যুর কথা স্মরণ করে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করেন মাজহারুল।
তিনি বলেন, “প্রায় ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী তাদের ভোটাধিকার প্রদান করেছেন। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনা করতে গিয়ে আমাদের শিক্ষকদের ঘাম ছুটে গেছে। একজন শিক্ষিকার মৃত্যু হয়েছে।”
ভোট গণনায় কোনো প্রকার অসঙ্গতি চোখে পড়েনি দাবি করে তিনি বলেন, “কিছু ক্রুটি বিচ্চুতি থাকার পরও আমরা মনে করি, এই নির্বাচন সফল হয়েছে।”
ছাত্রশিবিরের এ নেতা বলেন, “জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে গত বছরের ২৯ অক্টোবরে সরাসরি কার্যক্রম শুরুর পর থেকে কী পরিমাণ অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের শিকার হয়েছি; তারপরও আমরা আন্তরিকতা প্রদর্শন করেছি। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করেছি। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করেছি।”
‘মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়’ মন্তব্য করে ছাত্রশিবিরের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল বলেন, “জাকসু চালাতে আমরা যে কোনো প্রকার সমালোচনাকে স্বাগত জানাতে চাই।”
মাজহারুল তিন হাজার ৯৩০ ভোট পেয়ে জিএস নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাগছাসের প্রার্থী আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম পেয়েছেন এক হাজার ২৩৮ ভোট।
এ নির্বাচনে ২৫টি পদের মধ্যে ২০টি পদেই জয় পেছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা।
ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নবনির্বাচিত জিএস মাজহারুল ইসলাম।
তার প্যানেল থেকে পরাজিত ভিপি প্রার্থী আরিফ উল্লাহ আদিবসহ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।