রংপুরে শিক্ষক পরিবার খুন: বাদী চান আরও গভীর তদন্ত, পুলিশের আশ্বাস
মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী, তার মেয়ে ও মেয়ের জামাই নগরীর সেন্ট্রাল রোডে ডিবি কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা মামলায় আরও গভীর তদন্ত দাবি করেছে পরিবার।
সোমবার বিকালে এই মামলার বাদী গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী, তার মেয়ে ও মেয়ের জামাই নগরীর সেন্ট্রাল রোডে ডিবি কার্যালয়ে পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
তারা জানান, পুলিশ তাদের ডেকেছিল। এজন্য তারা এসেছেন। ঘণ্টাখানেক তারা ডিবি কার্যালয়ে ছিলেন। তারা পুলিশকে গভীরভাবে মামলাটি তদন্ত করে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশার কথা বলেছেন। পুলিশ তাদেরকে সেই আশ্বাস দিয়েছেন।
মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “উনারা (পুলিশ) আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন, আমরা ন্যায়বিচার পাব।
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি তো প্রথম দিন বলছিলাম যে, দুজনের পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা সম্ভব নয়। কিন্তু কেউ কেউ বলে যে, দুজন কেন, একজনও করতে পারে।
“তদন্তের আরও গভীরে যাওয়া দরকার। যদি হালকা হালকা উপরে উপরে শেষ করে দেওয়া যায়, তাহলে তো কিছু হবে না। আরও গভীরভাবে তদন্ত হোক।”
২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। তাদের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন।
তারা আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন।
সোমবার দুপুরে রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, “গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা কারাগার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।”
মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, “যদি মাদকের অস্তিত্ব ওদের (দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ) শরীরে পাওয়া না যায়, তখন তো বোঝা গেল যে, সুস্থ মস্তিষ্কে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
“এখন আমি আর কী বলব। আমি তো এখান থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে থাকি। আমি তো আশপাশের (নগরীর মাছুয়াপাড়া) লোক কাউকে চিনি না। কারও নামও বলতে পারব না, কারও ওপর সন্দেহও করতে পারব না।”
তিনি বলেন, “এখন যাতে আপনাদের মাধ্যমে এর সঠিক আসামি খুঁজে বের করা যায় এবং সঠিক বিচার হয়— সেটাই আমার একমাত্র কাম্য।”
এ সময় সেখানে বাদীর মেয়ে স্বপ্না চক্রবর্তী ও তার স্বামী বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, “যত দিন যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য আসছে। আমরা শুরু থেকেই বলছি। দুজন আসামি আছেন। একজনও অনেক কিছু করতে পারেন। তবে, এর সঙ্গে আরও কোনো মাথা জড়িত কিনা সেটা গভীরভাবে তদন্ত করার জন্য। পুলিশ আমাদের সেই আশ্বাস দিয়েছে, ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।”
আরও পড়ুন:
