Published : 18 Jul 2026, 05:47 PM
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বালু ব্যবসায়ীর কানে বিএনপি নেতার কামড় দেওয়ার অভিযোগকে দলের পক্ষ থেকে মিথ্যা বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন চিশতিয়া বালু ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেনকে মারধর করার সময় কান কামড়ে দেন- এমন অভিযোগ এনে পলাশ থানায় মামলা করা হয়।
মঙ্গলবার রাতে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মিয়া মোহাম্মদ সজীব ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। সজীব ও সাখাওয়াত ব্যবসায়িক অংশীদার।
এ ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে আসেন পলাশ পৌর বিএনপির নেতারা। এ সময় সেখানে উপজেলা বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
পৌর কমিটির সভাপতি আলম মোল্লা দাবি করেন, “বর্তমানে ডিজিটাল যুগ। এই যুগের যে কার্যক্রম, সন্ত্রাসী কার্যক্রম- সব আপনারা জানেন। দা, ছুরি, গুলি অনেক কিছু হতে পারত, কিছুই নেই। কানে কামড় দিয়েছে!

“অর্থাৎ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে, বিগত কিছু দিন আগে একটি ঘটনা ঘটেছিল, ওইটার ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে কানে কামড়কে তারা ভাইরাল করার জন্য, মিডিয়াতে প্রচার করার জন্য, মানুষের মনে বিভ্রান্তি করার জন্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই মিথ্যা সংবাদটি ছাপিয়েছিল।”
এদিকে মামলার বাদী ছাত্রদল নেতা সজীব অভিযোগ করেছেন, মামলা করার কারণে তার ঘোড়াশাল পৌরসভার মিয়াপাড়া এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
সজীব বলেন, শনিবার ভোরে আগুন দেওয়া হয়েছে। মামলার বাদী হওয়ার পর থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আগুনে পালিত বিদেশি পাখি, আসবাবপত্র, বই, দলীয় ছবি পুড়ে গেছে।”
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বাদী সজীব মিয়া বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প গ্রুপ ‘টিকে খানের’ বালু, ইট ও রড সরবরাহের কাজ পেয়েছেন। এজন্য তিনি সাখাওয়াত হোসেনকে ড্রেজার মেশিন ও পাইপ ভাড়াসহ কাজের জন্য নিয়োগ করেন।
সোমবার বিকালে ঘোড়াশালের টেকপাড়াস্থ বাংলাদেশ জুট মিলসের ভেতরে নদীর পাড়ে ড্রেজার মেশিন বসানোর সময় একদল সন্ত্রাসী রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, হকিস্টিক, লাঠি ও পিস্তল নিয়ে ঘটনাস্থলে চড়াও হয়।
পরবর্তীতে সাখাওয়াতকে বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন চিশতিয়ার বাড়ির উঠানে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করা হয়। এক পর্যায়ে সাখাওয়াতের কানে কামড় দিয়ে জখম করেন মহিউদ্দিন। এমনকি গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা চেষ্টাও করা হয় বলে মামলা অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মেসার্স সজীব ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ও ছাত্রদল নেতা মিয়া মোহাম্মদ সজীব মহিউদ্দিন চিশতিয়াকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম দিয়ে মামলা করেন। এতে ১৫-২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- জামাল (৪১), জনি (৩২), আনোয়ার (৪৩), শফিক (৩৭), আমিনুল (৪০), সোহেল (৩৮), জুয়েল (৩৫), মানিক (৪০), রায়হান (৩৪), রিজন (৩৭)।
আরও পড়ুন:
নরসিংদীতে ব্যবসায়ীর কান কামড়ে জখম, বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে মামলা