Published : 13 May 2026, 07:12 PM
দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের চাঁদপুর সফরকে ঘিরে পুরো জেলায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
আগামী ১৬ মে একদিনের সফরে তিনি খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
এ সফরকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নোতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। এর আগে সর্বশেষ ২০০৪ সালে চাঁদপুর সফর করেছিলেন তারেক রহমান।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম, সব জায়গায় টাঙানো হয়েছে শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। দলীয় নেতাকর্মীরা অব্যাহত রেখেছেন আনন্দ মিছিল, গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রম।

দীর্ঘদিন পর দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে কাছে পাওয়ার অপেক্ষায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে।
সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হচ্ছে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন।
জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকার ‘খোদ খাল’ এবং সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করবেন তিনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষেরহাট এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক বলেন, “দীর্ঘদিন অবহেলিত এসব খাল পুনঃখননের ফলে জলাবদ্ধতা নিরসন, স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
এদিকে সফরের আরেকটি বড় আকর্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিকে। একযোগে দেশের ২২টি জেলায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে এ কর্মসূচি নিয়েও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চাঁদপুর শহরের বাসিন্দা ও ‘ক্লিন চাঁদপুর’ এর প্রতিষ্ঠাতা নূরুল আমিন খান আকাশ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে শুধু রাজনৈতিক আবহই নয়, জেলার উন্নয়ন প্রত্যাশাও নতুন করে সামনে এসেছে।
“চাঁদপুরবাসী জেলার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ইপিজেড স্থাপন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা এবং নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।”
সশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, প্রধানমন্ত্রী চাইলে চাঁদপুরকে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করা সম্ভব।
তিনি বলেন, খালর খননের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নদীনির্ভর জনপদের জীবনযাত্রায়ও নতুন গতি আসবে।
চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এমপি জানান, “চাঁদপুরবাসীর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চাঁদপুরের উন্নয়ন ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, সফরের প্রতিটি কর্মসূচি সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি তারেক রহমান চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভাতেও অংশ নেবেন।