Published : 22 Nov 2025, 08:13 PM
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় হাজং জনগোষ্ঠীর বিলুপ্তপ্রায় নবান্ন উৎসব ‘নয়া খাওয়া’ উদযাপিত হয়েছে।
উপজেলার কয়রাকুড়ি গ্রামের হাজং পল্লীর নিরঞ্জন হাজংয়ের বাড়ির আঙিনায় শনিবার এ উৎসব উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-আইইডির সহযোগিতায় নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ এবং বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠন এ উৎসবের আয়োজন করে।
‘নয়া খাওয়া’ উৎসব উপলক্ষে শনিবার সকালে স্থানীয় একটি ধানক্ষেতের পাশে হাজং ঐতিহ্য অনুসারে ‘বাস্তুপূজা’ করা হয়। এ সময় শস্যদেবতার উদ্দেশে নতুন ফসলের ‘নৈবেদ্য’ উৎসর্গ করা হয়।
দুপুরে রান্না করা হয় ঐতিহ্যবাহী বিন্নি ধানের ‘বিচি ভাত’ (বিশেষ পদ্ধতিতে ভাপের তাপে রান্না করা আঠালো জাতীয় ভাত), বিভিন্ন পদের তরকারি এবং মাশকলাইয়ের ডাল। এসব খাবার দিয়ে দুপুরের আপ্যায়ন পর্ব সাড়া হয়।
এর আগে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘সমাজসেবা ও জাতিসত্ত্বার উন্নয়নে অবদান’ রাখায় বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠন শেরপুর জেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা কল্পনা হাজংকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় তাকে উত্তরীয় ও সন্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় হাজং সংগঠন শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি সুকুমার হাজংয়ের সভাপতিত্বে সভায় ‘নয়া খাওয়া’ এর ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র সরকার, ধান গবেষক সেন্টু হাজং, কবি জ্যোতি পোদ্দার।

এতে আরো বক্তব্য দেন জনউদ্যোগ আহ্বায়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, শেরপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল কাদির, প্রাণ-প্রকৃতি ও পাখী বিশেষজ্ঞ শহীদুজ্জামান শহীদ, হাজং নেত্রী কল্পনা হাজং, এপেক্সিয়ান মমিনুল ইসলাম, আদিবাসী নেতা সুমন্ত বর্মন, মিঠুন কোচ, সোলায়মান আহম্মেদ।
সব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হাজং শিল্পীরা নৃত্য-গীত পরিবেশন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুকুমার হাজং বলেন, “অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর মত হাজংদের ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যেতে বসেছে। নানা কারণে এখন আর আগের মত নিজস্ব সংস্কৃতির আয়োজন নেই। পুরনো ঐহিত্য ফিরিয়ে আনতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু কাজ হচ্ছে।”
তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে নিজস্ব কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই ‘নয়া খাওয়া’ নবান্ন উৎসবের আয়োজন। এর মধ্য দিয়ে হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি আবার জাগরুক হবে এবং তরুণ প্রজন্ম এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।