টঙ্গীতে স্বেচ্ছাশ্রমে চলছে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি, প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ

আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আলোচনা করে দুই মঞ্চ বন্ধ করে রেখেছি। এক মঞ্চেই হবে ইজতেমা।”

গাজীপুর প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Jan 2024, 06:18 AM
Updated : 28 Jan 2024, 06:18 AM

গাজীপুরের টঙ্গীর তুরাগ তীরে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। তাবলিগ জামাতের সবচেয়ে বড় বার্ষিক এই সম্মেলনের জন্য ময়দান প্রস্তুতির কাজ প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। 

বাকি কাজ ৩১ জানুয়ারির মধ্যেই শেষ হবে জানিয়ে বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী (মাওলানা জোবায়ের অনুসারী) মুফতি জহির ইবনে মুসলিম বলেন, প্রতিবারের মতো স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেই এগিয়ে চলছে ইজতেমার প্রস্তুতি। দেশ বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিদের সঙ্গে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন মাদ্রাসা, স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরাও। 

এবারও এক মঞ্চে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমা। প্রথম পর্বে অংশ নেবেন মাওলানা জোবায়ের অনুসারীরা। ৪ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্ব।

মাওলানা সা’দ অনুসারীরা ৯ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমায় অংশ নেবেন। ১১ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের বিশ্ব ইজতেমা। 

এদিকে রোববার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ইজতেমা ময়দান পরিদর্শন করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলামসহ গাজীপুর মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা।

এসময় তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদ নিজামুদ্দিনের পক্ষে মুরুব্বি রেজাউল করিম, মহিবুল্লাহ, মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ সায়েম, হাজী মনির এবং মাওলানা জোবায়ের অনুসারীদের পক্ষে প্রকৌশলী মেসবাহ, মাহফুজ, আজগর, জমির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ইজতেমার প্রধান সমন্বয়কারী প্রকৌশলী মাহফুজ বলেন, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষদের অবস্থানের জন্য জেলাওয়ারি নির্দিষ্ট খিত্তায় (ভাগে) বিভক্ত করা হচ্ছে ময়দান। এবার বিশ্ব ইজতেমায় ১০৫টি খিত্তা থাকবে।

তিনি জানান, টঙ্গীতে তুরাগ তীরে শামিয়ানা টানানো, রাস্তাঘাট মেরামত, নীচু জমি ভরাট ও পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রায় ১৬০ একর জমির ওপর তাবলিগ জামাতের সদস্যদের থাকার জন্য বিশাল চটের প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে।

ইজতেমা মাঠের উত্তর-পূর্ব ও পশ্চিম পাশের নীচু জমিতে বালু ফেলে উঁচু করা হয়েছে। মুসল্লিদের যাতায়াতের জন্য তুরাগ নদে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণ করছেন। 

মঞ্চ নির্মাণ, মাঠের উত্তর-পশ্চিম কোণে টিনের চালা ও ইটের গাঁথুনির দেওয়াল দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। বিদেশি মেহমানদের আবাসন ব্যবস্থা করা হয়েছে।

খাবার পানি, অজুখানা, গোসলখানা সংস্কার, পুরোনো টিউবওয়েল, বাথরুম ও কাঁচা-পাকা টয়লেট সংস্কার, ইটের সলিং দিয়ে রাস্তা তৈরি ও ড্রেন সংস্কার করা হয়েছে। 

এছাড়া বিদ্যুৎ লাইন, গ্যাস লাইন, পানির পাইপ লাইন, পানির ট্যাঙ্কি বসানো, বাঁশের খুঁটি বসানো, নামাজের দাগ কাটা, মাঠের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারসহ প্যান্ডেল সাজগোছের কাজ করা হচ্ছে।

ইজতেমা ময়দানের অভ্যন্তরে রাস্তা মেরামত কাজ করছিলেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিদেশি মেহমানরা স্বাচ্ছন্দ্যে বয়ান মঞ্চে যাওয়ার পথ নির্মাণের জন্য কাজ করছি।

ময়দানে প্রস্তুতির কাজে থাকা শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রতি বছরই ইজতেমা শুরু হওয়ার সাত দিন আগে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা ময়দানে স্বেচ্ছায় কাজ করতে আসে 

এদিকে, এবার টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরের বিশ্ব ইজতেমা মঞ্চের পাশাপাশি উত্তরার দিয়াবাড়িতেও ইজতেমার আয়োজন করার কিছু প্রস্তুতি নেওয়া হলেও সেখানে তা হচ্ছে না। 

শনিবার বিকালে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বি প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমরা গত সপ্তাহে পরামর্শ করছি। মুরুব্বিরা বসে আলোচনা করে দুই মঞ্চ বন্ধ করে রেখেছি। এক মঞ্চেই হবে ইজতেমা।” 

সম্প্রতি টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি পর্যালোচনা সভায় পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিশ্ব ইজতেমা সফল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জোবায়ের পন্থি তাবলীগ জামাতের মুরব্বিরা উত্তরায় দিয়াবাড়ী এলাকায় বিশ্ব ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেল নির্মাণ কাজ শুরু করে, কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো অনুমতি নেননি তারা। 

সভায় উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিশ্ব ইজতেমার জন্য আরেকটি প্যান্ডেল নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দিয়ে মুরুব্বিদের তিনি বলেন, “আমরা চাই আপনারা ভবিষ্যতে যৌথভাবে কাজ করবেন।” 

আরও পড়ুন

Also Read: ইজতেমায় চলবে ১১ জোড়া বিশেষ ট্রেন

Also Read: ইজতেমা শেষে ‘ভাঙচুর ছাড়াই’ মাঠ বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান

Also Read: বিশ্ব ইজতেমা শুরু ২ ফেব্রুয়ারি, এবারও হবে ২ পর্বে