Published : 02 Jun 2026, 09:09 PM
মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙন এবং তীর থেকে ইটভাটায় মাটি কেটে নেওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বরিশালের হিজলা উপজেলার সাতটি গ্রাম। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে সাত গ্রামের হাজারো নারী, শিশু ও পুরুষ মানববন্ধন করেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়নের মান্দ্রা তয় চর কুসরিয়া গ্রামে মেঘনা নদীর তীরে এ মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন দপ্তরী, হিজলা-গৌরব্দী ইউনিয়ন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান জমাদ্দার, সালাহউদ্দিন রিমন দেওয়ান, গিয়াস দেওয়ান, মাওলানা শিবলী নোমান, ইউপি সদস্য বাবেয়া বশরী তন্বী, ধুলখোলা ইউপি সদস্য রতন রাঢ়ী।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ৮০ বছর বয়সী হযরত আলী খাঁ বলেন, “মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙন এবং তীর থেকে ইটভাটার জন্য মাটি কেটে নেওয়ায় গত কয়েক বছরে অন্তত ১০০ কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে হাজারো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।”

প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল জাহের মোল্লা বলেন, “রাত হলেই ভেকু নিয়ে ইটভাটার জন্য নদীর তীর থেকে মাটি কাটা শুরু হয়। ভোর রাত পর্যন্ত চলে মাটি কাটা। ভাঙন ও নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পূর্ব মান্দ্রা, মান্দ্রা চরকুশরিয়া, মান্দ্রা তয় চর কুশরিয়া, কাকরিয়া, শাওড়া, শাওড়া সৈয়দখালী এবং ওরাকুল গ্রাম।”
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, নদী ভাঙনের কারণে মানুষ নিজের ভিটেবাড়ি হারিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। সব হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তারা।
এ সময় তারা অভিযোগ করেন, উপজেলায় ৭৬টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ইটভাটা বৈধ। এসব ইটভাটার সিংহভাগ মাটি ভাঙনপ্রবণ এলাকা থেকে নেওয়া হয়। যার কারণে নদী ভাঙন আরো দ্রুত হচ্ছে।