Published : 07 May 2026, 07:22 PM
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার দিতে ও স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে সরকারের চালু করা স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলায় নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে।
উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে শক্ত রুটি, পচা ডিম ও ছোট আকারের কলা দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীদের খাবারও পুরোপুরি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “নষ্ট ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ আমরা শুনেছি। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে।”
দুই উপজেলায় সরকারের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে ইকো সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) স্কুল ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২১ হাজার ৩৩৪ জন এবং জলঢাকা উপজেলার ২৪৮টি বিদ্যালয়ের ৩৬ হাজার ৫৫৭ শিক্ষার্থী এই কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছে।
প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, সপ্তাহে ছয় দিন রুটিন অনুসারে বানরুটি, কলা, ডিম ও দুধ দেওয়ার কথা রয়েছে।
উপজেলার উত্তর চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরঞ্জাবাড়ি বটতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকবন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাগুড়া ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া যায়।
কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, কোনো কোনো দিন তারা পুরো খাবার পায় না। কখনও একটি রুটির প্যাকেট ভাগ করে দেওয়া হয়, আবার কখনও একটি ডিম দুই শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয়।
চাঁদখানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশা মনি ও রাজিয়া আক্তার বলেন, তারা যে রুটি পেয়েছিল তা শক্ত ও টক স্বাদের ছিল।
বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক আনিছুর রহমান ও রফিকুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর কয়েকটি প্যাকেট খুলে তারা শক্ত ও টক গন্ধযুক্ত রুটি দেখতে পান। পরে অনেক শিক্ষার্থী সেগুলো খেতে চায়নি।
মাগুড়া ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনন্ত কুমার রায় বলেন, “বরাদ্দ সংকটের কারণে কখনও কখনও একজনের খাবার দুইজনকে ভাগ করে দিতে হয়েছে।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, কিছু বিদ্যালয়ে নিম্নমানের খাবার নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে।

পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক মনোয়ার হোসেন ও সালমা বেগম বলেন, কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে পচা ডিম বিতরণ করা হয়েছিল। বিষয়টি তারা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মোর্শেদা বেগম বলেন, “ডিম নষ্ট থাকার বিষয়টি আমরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত হয়নি।”
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব বলেন, পচা ডিম, কলা বা পাউরুটিসহ যেকোনো পচন ধরা খাবার খেলে শিশুদের ক্ষেত্রে সালমোনেলা নামের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। এতে ডায়রিয়া, জ্বর, বমি ও তীব্র পেটব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, এমন লক্ষণ দেখা দিলে শিশুদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
খাদ্য সরবরাহে ব্যবহৃত রুটির প্যাকেটে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের ‘তৃপ্তি বেকারী’র নাম দেখা যায়। পরে সেখানে গিয়ে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রুটি তৈরির অভিযোগ পাওয়া যায়।
বেকারির মালিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার কাগজপত্র ব্যবহার করা হলেও সরাসরি আমার সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি।”
তবে এ বিষয়ে ইএসডিওর জেলা ব্যবস্থাপক ও প্রকল্প তদারক কর্মকর্তা মো. সামছুল আলম বলেন, “তৃপ্তি বেকারির সঙ্গেই আমাদের চুক্তি রয়েছে।”
নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “কিছু সমস্যা হয়েছে। আমরা বিষয়টি ঠিক করার চেষ্টা করছি।”
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, “স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা খাতুন প্রশিক্ষণে থাকায় তিনি বক্তব্য দিতে চাননি।