Published : 10 Oct 2025, 12:54 PM
শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরের বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। তবে সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশ চড়া। পাশাপাশি বাজার থাকা অন্য সবজির দামও কমেনি।
ফরিদপুরের স্থানীয় চাহিদা পূরণে বেশিরভাগ সবজি আসে যশোর, মাগুরা অঞ্চল থেকে। প্রতিদিন ভোরে এসব এলাকা থেকে বিভিন্ন প্রকারের সবজি নিয়ে আসেন বিক্রেতারা।
তারা বলছেন, ধারাবাহিক বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেত ক্ষতির মুখে রয়েছে যে কারণে বাজার এখনো ঊর্ধ্বমুখী। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন বাড়লে দাম কমে আসবে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার সকাল থেকে ফরিদপুর শহরের সবজির অন্যতম বড় পাইকারি বাজার হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজার ঘুরে দেখা গেছে আগাম শীতকালীন সবজির মধ্যে দেশি টমেটো ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা, আমদানিকৃত টমেটো ১০০ টাকা, সিম ১৪০ টাকা, ফুলকপি ৯০-১০০ ও ধনিয়া পাতা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।
এছাড়া, কেজি প্রতি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়, পটল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০, কাকরোল ৬০-৭০ টাকা, মুলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ১৫-২০ টাকা, প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কচুমুখি।
তবে কিছুটা কমলেও বাজারে কাঁচামরিচের অতিরিক্ত ঝাঁজ এখনো আছে। গত সপ্তাহে বাজারে খুচরা ৩০০ টাকার উপরে কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হলেও এ সপ্তাহে তা কমেছে বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৭০ টাকার মধ্যে।
এ বাজারে সবজি কিনতে আসা রেজাউল কমির বিপুল বলেন, “শীত আসতে শুরু করেছে, কিন্তু এখনো শাকসবজির চড়া দাম। এক মুঠা লাল শাক ২০ টাকা দরে কিনতে হয়েছে, একটি লাউ মাঝারি আকারের, কিনতে হয়েছে ৬০ টাকা দিয়ে।”

শীতকালীন সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো সময় লাগবে বলে মনে করেন তিনি।
স্কুল শিক্ষক মনিরুজ্জামান বলেন, “বাজারে যে সকল নতুন সবজি উঠছে তা আমাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। এখনো কাঁচা মরিচের দাম কমে নাই। যদি তরি-তরকারীর দাম কমে তাহলে আমরা সামান্য হলেও কিনতে পারবো এবং সুস্থভাবে চলতে পারবো।”
স্থানীয় আরেক ক্রেতা হারুন অর রসিদ বলেন, “বাজারে শীতকালীন আগাম সবজিগুলো আসছে কিন্তু চাহিদা বেশি দামও অনেক বেশি। যেহেতু উৎপাদন কম যার কারণে দাম বেশি।
“এর ফলে সাধারণ মানুষের সবজি কিনে খাওয়াটা অনেক কষ্টের ব্যাপার। এখন তুলনামূলক যেখানে এক কেজির প্রয়োজন সেখানে মানুষ হাফ কেজি বা তারও কম নিয়ে চলছে।”
বাজার থেকে তরকারি কিনে ফেরার পথে রিকশাচালক হাবিব মোল্লা বলেন, “এ সময়েও বাজার দর যদি এমন হয় তাহলে স্বল্প আয়ের মানুষগুলো কী ভাবে চলবে?”
সবজি বিক্রেতা আবু জাফর শেখ জানান, “এখন সবজির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আছে। যদিও শীতকালীন নতুন সবজিগুলোর দাম একটু বেশি। এছাড়া বাজারের সরবরাহ যেমন দর-দামও ঠিক তেমন, সরবরাহ না বাড়লে দামের নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।”
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শাহদুজ্জামান বলেন, “গত দুই মাসে বেশ কয়েক বার ধারাবাহিক বৃষ্টির কারণে সব ধরনের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে যে কারণে এখন বাজারে তার প্রভাব পড়ছে।
“আমরা তার পরেও চাষীদের সবসময় সরকারি সহায়তা দিয়ে জাগিয়ে রাখছি, যাতে হতাশ না হয়ে আবার ক্ষেতে ফিরে আবাদে মনোযোগ দিতে পারে।”