১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

চুয়াডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লাল্টু মারা গেছেন

মুক্তিযুদ্ধের সময় নুরুজ্জামান লাল্টু ও তার বড় ভাই মতিয়ার রহমান মণ্টু সাহসী গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

চুয়াডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লাল্টু মারা গেছেন
নুরুজ্জামান লাল্টু।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Feb 2026, 04:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:02 PM

চুয়াডাঙ্গার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লাল্টু মারা গেছেন। 

বুধবার সন্ধ্যায় কয়রাডাঙ্গায় নিজ বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

পরদিন সকাল ১০টায় ওই গ্রামে তার প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নুরুজ্জামান লাল্টু ও তার বড় ভাই মতিয়ার রহমান মণ্টু ও পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেন এবং সাহসী গেরিলা যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। 

দেশ স্বাধীনের পর একসময় তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি সংগঠন পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরে তিনি নিজের একটি বাহিনী গড়ে তোলেন। 

চুয়াডাঙ্গার সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বেলাল হোসেন বলেন, নব্বই দশকে নুরুজ্জামান লাল্টু গঠন করেন চরমপন্থি সংগঠন বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি। 

জাসদের পাচ নেতা হত্যা, কুষ্টিয়ায় কাজী আরেফ আহমেদসহ বেশ কয়েকটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। এসব মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই খুলনা বিভাগের তৎকালীন ডিআইজি লুৎফুল কবিরের কাছে তিনি ও তার সঙ্গীরা আত্মসমর্পণ করেন। সে সময় বেশ কিছু অস্ত্র জমা দেন তারা। 

তার বিরুদ্ধে থাকা বেশিরভাগ মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়েছিলেন। ১৯ বছর পরে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কারাগারের বাইরে আসেন। 

জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করেন। ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করে জীবন অতিবাহিত করছিলেন। 

নুরুজ্জামান লাল্টু স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।