Published : 22 Jun 2025, 06:04 PM
দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তর জেলা ফরিদপুর। এ জেলার চাষিরা বর্তমান পেঁয়াজের দরে লোকসানের মুখে পড়েছেন।
ফরিদপুরের বড় বড় বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দর ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
চাষিদের দাবি, ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা বিক্রি করতে পারলে তাদের লোকসানে পড়তে হতো না।
রোববার সকালে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ঠেনঠেনিয়া পেঁয়াজ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, প্রকার ভেদে পেঁয়াজ মণ প্রতি ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলা শহর ও আশে-পাশের বাজার গুলোতে ঘুরেও বর্তমানে পেঁয়াজের দামের এমন চিত্র মিলেছে।

পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফরিদপুরের পেঁয়াজের বাজারগুলোর মধ্যে অন্যতম সালথার ঠেনঠেনিয়া বাজার। ঈদের পরেই হঠাৎ করে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে যাওয়া দাম কিছুটা পড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেঁয়াজ ব্যবসায়ী খোরশেদ মোল্লা বলেন, “ঠেনঠেনি বাজার থেকে প্রতি হাটে ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক পেঁয়াজ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। গড়ে এক কোটি টাকার বেশি পেঁয়াজ প্রতি হাটে ক্রয়-বিক্রয় হয়।”
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠেনঠেনিয়া পেঁয়াজের বাজারে সকাল ৬টা থেকেই পেঁয়াজ চাষিরা ভিড় করতে শুরু করেন। কেউ ভ্যান করে, কেউ নসিমনে, কেউ অটোরিকশায় করে, অনেকে বস্তা মাথায় করে আবার কেউ ঝুড়িতে করে পেঁয়াজ এনে বাজারে তুলছেন।
সেখানে স্থানীয় ব্যবসায়ীর পাশাপাশি দেশের দূর-দুরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরাও বিক্রেতার কাছ থেকে দরদাম করে পেঁয়াজ সংগ্রহ করেন। ঠেনঠেনিয়া বাজার চলে দুপুর পর্যন্ত। সপ্তাহে রোববার ও বুধবার বসে পেঁয়াজের হাট।

প্রতি হাটে পেঁয়াজের দুই শতাধিক বড় ব্যবসায়ী ২০০ থেকে ৩০০ টন পেঁয়াজ ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে নিয়ে যায়।
সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সোহান বলেন, ঠেনঠেনিয়া বাজারের প্রতি হাটে কোটি টাকার বেশি পেঁয়াজ ক্রয় বিক্রয় হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রবিশালসহ বেশ কয়েকটি বিভাগীয় শহরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এখানে পেঁয়াজ কিনতে আসেন। যোগযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় সহজেই কৃষি পণ্যটি ক্রয় করে নিয়ে যেতে পারেন তারা।
পেঁয়াজ চাষিরা বলছেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু সেই হারে দাম বাড়েনি। এ মৌসুমে পেঁয়াজের আবাদও বেশি হয়েছে।
কথা বাজারের পেঁয়াজ চাষি নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, “পেঁয়াজ যখন ঘরে তুলি সেই সে সময় দাম হাজারের কম ছিল। একটু ভাল দরের আশায় এতোদিন ঘরে সংগ্রহ করে রেখে ছিলাম। কিন্তু এখন যে দর বাজারের আছে তাতে পুঁজি টিকানো কষ্ট।”

একই ভাষ্য চাষি আলমগির মোল্লা, ঈব্রাহিম মাতুব্বর ও নিছার উদ্দিন খানের।
তারা বলছিলেন, বাজারে তারা যদি ২ হাজার থেকে ২২’শ টাকায় দর পেতেন, তাহলে তাদের লোকসানে পড়তে হতো না।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহেদুজ্জামান বলেন, জেলায় তিন ধরনের পেঁয়াজের আবাদ হয়। এর মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ, হালি পেঁয়াজ এবং দানা পেঁয়াজ। এ তিন ধরনের পেঁয়াজের মধ্যে হালি পেঁয়াজ বেশি আবাদ হয়। এই মৌসুমে ফরিদপুরে ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়।
এ বারের উৎপাদনের হার ও বেশ ভাল বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা ।