Published : 04 Mar 2026, 05:59 PM
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রেমিক ও প্রেমিকাকে গাছে বেঁধে দিনভর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। আধুনিক যুগে এসেও এমন অমানবিক শাস্তির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
বুধবার সকালে উপজেলার সলিলপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারী খড়ের দাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পাবনা জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার কাঁঠালপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে কবিরুলের সঙ্গে ভাড়ইমারী গ্রামের এক তরুণীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল।
মঙ্গলবার রাতে কবিরুল ওই তরুণীর বাড়িতে আসেন। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী দুজনকে আটক করেন। পরে যুবক ও তরুণীকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে এবং পায়ে লোহার শেকল পরিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাদের এভাবে জনসম্মুখে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে অপদস্থ করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। উপস্থিত জনতা তাদের গালিগালাজ ও অপমান করলেও কেউ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে বিকালে প্রশাসনের নজরে আসে। জেলা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, এভাবে ছেলে-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে ও শেকল পরিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
“আমরা অনেক সময় অতি উৎসাহী হয়ে কাউকে অপমান করে তৃপ্তি পাই; যা অনেকটা ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত’ যুগের বর্বরতার মত। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”, বলেন তিনি।
তবে এলাকাবাসীর দাবি, এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড রোধে তারা সামাজিকভাবে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে তার বিচার হবে আইনের মাধ্যমে। কিন্তু সাধারণ মানুষের এভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় সাজা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।
সদর থানা পুলিশ ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের পর বিষয়টি তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে জানান পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।