Published : 17 Nov 2025, 01:53 PM
কুমিল্লায় মাদক কারবারে বাধা এবং জমির বিরোধ নিয়ে মা ও ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে যুবকের বিরুদ্ধে।
সোমবার সকালে জেলার আদর্শ সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী বসন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম।
নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের মৃত আজগর আলীর স্ত্রী রাহেলা বেগম (৬৫) ও তার ছোট ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)। ঘটনার পর থেকে পলাতক রাহেলা বেগমের বড় ছেলে বিল্লাল হোসেন।
নিহত কামালের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, “বিল্লাল ভাই গত পাঁচ বছর যাবত মাদকের পরিবহনের সঙ্গে জড়িত। আমার স্বামী বিল্লাল ভাইকে মাদক সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বাধা দিলে সেই সূত্র ধরে আমার স্বামীর উপর হামলা করে। আমার শাশুড়ি বাঁচাতে আসলে তাকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।”
তিনি বলেন, “এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়েও আমার স্বামীর সঙ্গে ভাসুর বিল্লালের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি প্রকট হয়। বিল্লাল ভাই বিভিন্ন সময় আমার স্বামীকে বাড়িতে আসতে হুমকি-ধমকি দিত। ”

পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কামাল সম্প্রতি প্রবাস থেকে ফেরত এসেছেন। তারপর থেকেই জমি-জমার ভাগাভাগি নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি শুরু হয়।
সব শেষ সোমবার সকালে বিল্লাল বাড়িতে মাদক নিয়ে প্রবেশ করতে গেলে তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় কামালের। এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে বিল্লাল।
তখন তাদের মা রাহেলা বেগম ছোট ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে বিল্লাল। এতে কামাল ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাহেলা বেগমের মৃত্যু হয়।
নিহত কামাল হোসেনের প্রতিবেশী ও মামা আবু তাহের বলেন, “বিল্লাল ও কামালের মধ্যে মূলত জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত ঝামেলা চলছিল। যতটুকু জানি বাড়িতে খড়ের গাদা স্থাপন নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এছাড়া বিল্লালের মাদক ব্যাবসার কথাও কিছুটা আমরা শুনেছি। এই নিয়েও দু’ভাইয়ের বিরোধ ছিল।“
ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিল্লালের স্ত্রী আকলিমা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত বিল্লাল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করছিলেন। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা রয়েছে।”
নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সিআইডি এবং পিবিআই-র পৃথক তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।