Published : 11 Jul 2026, 06:45 PM
সীমান্তে ভারত সুড়সুড়ি দিলেও সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেছেন, “বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সীমান্ত। সীমান্তে সুড়সুড়ি দিচ্ছে প্রতিবেশী ভারত। সরকার মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে। আমরা প্রতিবাদ করছি, জনগণ প্রতিবাদ করছে। শুধু প্রতিবাদ করছে না, প্রতিরোধ করার জন্য বিজিবির সৈনিকদের সঙ্গে সমানতালে জনগণ লড়াই করে যাচ্ছে। আমরা এই সংগ্রামী বীরদেরকে অভিনন্দন জানাই।”
তিনি বলেন, “সরকারের মুখ থেকে এই ব্যাপারে এখন পর্যন্ত একটা শব্দও আসে নাই। কার ভয়ে, কাকে খুশি করার জন্য? কোন দেশের শাসক আপনারা ঠিক? জনগণের অভিপ্রায় আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে মেহেরবানি করে অবস্থান নেবেন না। নিলে কী হয়- সম্প্রতি ইতিহাস থেকে সবারই সবক গ্রহণ করা উচিত। অতএব সাফ কথা, তিস্তার ব্যাপারে কোনো ধানাই-পানাই বুঝি না। তিস্তা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।”

শনিবার বিকালে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে চার দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ ইন’ বন্ধ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দুর্নীতিবাজরা এক হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ১১ দলকে হারিয়ে দিয়েছে এমন অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান বলেন, “ঘুঘু তুমি ধান খাও বারবার, ধরা পড়বা একবার। আগামীতে এই সুযোগ আর দেবে না জনগণ। তখন ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তির ওপরে ১১ দল একটি সরকার গঠন করবে ইনশাল্লাহ।”
জামায়াতের আমির বলেন, “আমাদেরকে বিভিন্নভাবে গণভোট বাস্তবায়নের দাবি থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য অনেক কথা বলা হচ্ছে। পরিষ্কার কথা- আমরা জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে পারবো না। জাতিকে আমরা কথা দিয়েছি- লড়াই আমরা করে যাব, গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য করব ইনশাআল্লাহ। এর থেকে এক চুল পরিমাণ আমরা সরব না। এই আবু সাঈদের রক্তে ভেজা রংপুরে আরেকবার এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করে গেলাম।”
তিনি বলেন, “তিস্তা নিয়ে বর্তমান সরকারি দল নির্বাচনের আগে আন্দোলন করেছে। কিন্তু তিস্তা নিয়ে এই বাজেটে ১০ টাকারও বরাদ্দ নেই। আমরা কথার ফুলঝুরি শুনতে চাই না। আমরা বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই। এই সরকার যদি ব্যর্থ হয়, আগামীতে ১১ দল সরকার গঠন করে সেই দাবি বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।”
সমাবেশে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ বলেন, “আমাদের সৈন্য দুই লাখ আড়াই লাখ নয়, এই দেশে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকটা নারী-পুরুষই আমাদের সৈন্য। জুলাইতে এটার প্রমাণ রেখেছে সবাই।”