Published : 09 Jul 2026, 10:18 PM
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং এর খাবাবে পচা ডিম সরবরাহ করার প্রমাণ পেয়েছেন ইউএনও।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের ভেতর সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা ব্যবহার করে ডিম সিদ্ধ করা হচ্ছিল; যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুর রহমান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইউএনও আরিফুর রহমান ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে গেলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। এ সময় তিনি খাবারে মধ্যে একটি পচা ডিম পান।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদারকির নির্দেশ দেন ইউএনও।
সরকারের স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে এ উপজেলার ১৭৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর্থিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)।
এর আগে ৭ মে স্কুল ফিডিং ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘নীলফামারীতে স্কুল ফিডিংয়ে শক্ত রুটি-পচা ডিম দেওয়ার অভিযোগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
বিদ্যালয় থেকে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১। তাদের সকলের জন্য সপ্তাহে পাঁচ দিন ডিম, কলা ও বানরুটি সরবরাহ করে আসছেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি মো. জোনাব আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম।

এ বিষয়ে নয়ানখাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মওলা বলেন, “বিদ্যালয়ের ২০১ শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় রয়েছে ১৮১ জন। তাদের জন্য বিদ্যালয়ের দপ্তরি জোনাব আলী টিটুর স্ত্রী হেনা বেগম খাবার সরবরাহ করে আসছে।
“তিনি বাড়ি থেকে সব তৈরি করে স্কুলে নিয়ে আসতেন। কিন্তু এদিন তিনি স্কুলে এসে ডিমগুলো সিদ্ধ করছিলেন।”
বিদ্যালয়ে সিলিন্ডার গ্যাসের চুলা জ্বালানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে আমরা ‘কেয়ার মাদার’ হেনা বেগমকে সর্তক করেছি। আগামীতে এ ধরণের ঘটনা হবে না বলে তিনি জানান।”
খাবারে পচা ডিম পাওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বলেন, “ইউএনও খাবারের মান পরিদর্শনের সময় একটি ডিম পচা পেয়েছেন। তবে তখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম ও কলা বিতরণ করা হয়নি। পরে নষ্ট ডিমটি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। তবে বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ও অন্যান্য কার্যক্রমে তিনি (ইউএনও) সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের ‘স্কুল কেয়ার মাদার’ হেনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাস্তবায়ন সংস্থা ইএসডিও কিশোরগঞ্জ উপজেলা ব্যবস্থাপক আলিনুর রহমান বলেন, “ওই স্কুলের দপ্তরির স্ত্রী হেনা বেগমকে স্কুল কেয়ার মাদার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা তাকে বিকাশে টাকা পেমেন্ট করে দেই।”
বিদ্যালয়ের কক্ষে গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা ব্যবহার করে ডিম সিদ্ধ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দায়িত্ব ‘স্কুল কেয়ার মাদার’ খড়ির চুলায় ডিম সিদ্ধ করল নাকি গ্যাসের চুলায় করল সেটি আমাদের দেখার বিষয় না। ডিম ও কলা পচনশীল খাদ্য।
“স্কুল কেয়ার মাদারদের নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। কোনো খাবার নষ্ট থাকলে সেটি তাৎক্ষণিক পরিবর্তন করে দেবে। আজকেও ওই স্কুলের নষ্ট ডিমটিও পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে।”
ইউএনও আরিফুর রহমান বলেন, “ওই বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খাবারের মান পরীক্ষা করি। সেখানে একটি ডিম নষ্ট পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে খাবারের মান নিশ্চিত করতে এবং নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”