Published : 01 Jun 2026, 09:18 PM
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত এক তরুণ মারা গেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আযম।
নিহত শিপন মিয়া (১৮) উপজেলার মরিচারচর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে।
রোববার উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী ও মরিচারচরের দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বিয়ে বাড়িসহ ২০ বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া শতাধিক খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়।
একই ঘটনায় একটি বিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। পরে কনেকে অন্য একটি বাড়িতে বিয়ে পড়িয়ে বরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে আপ্যায়ন ছাড়াই বরযাত্রী কনেকে নিয়ে ফিরে যায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের দিন বিকালে মরিচারচরে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে আসা শতশত মানুষের ভিড়ে বিক্রি হচ্ছিল ফুচকাসহ অন্যান্য খাবার। সেই সময় স্থানীয় কয়েক কিশোর ফুচকার দোকানে গিয়ে অর্ডার দেয়। একই সময় পাশের চরআলগী গ্রামের কয়েক কিশোরও ফুচকার অর্ডার দেয়।
এর মধ্যে চরআলগী গ্রামের কিশোরদের ফুচকা আগে দিয়ে দেওয়ায় বাধ সাধে মরিচার গ্রামের কিশোররা। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও পরে দেশি অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটি মীমাংসা করে দিতে এগিয়ে যান মরিচার চর গ্রামের প্রয়াত চাঁন মিয়ার ছেলে মো. ইব্রাহিম মিয়া। তিনি ঘটনাটি মিটমাট করে চলে যান।
পরে রাতে ইব্রাহিমকে উচাখিলা বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে মরিচারচর গ্রামের লোকজন হামলা চালায়। ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহতও হন। জানতে পেরে ইব্রাহিমের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার দুপুরে চরআলগী গ্রামে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালায়।

হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দরিদ্র নাজিম উদ্দিন। তার বাড়িতে তখন মেয়ের বিয়ের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছিল। হামলাকারীরা রান্না করা খাবার, বাসনপত্র ও অতিথিদের বসার ব্যবস্থা তছনছ করে দেয়। এতে ভেস্তে যায় বিয়ের আয়োজন। পরে কনেকে পাশের বাড়িতে নিয়ে বিয়ে পড়িয়ে বরের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, “আমাদের কোনও দোষ ছিল না। বরপক্ষ আসার আগেই সবকিছু নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। আমার ভাই শোকে-দুঃখে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা এর বিচার চাই।”
ইব্রাহিম বলেন, “আমার ওপর অযথা এলোপাতাড়ি হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। আমার হাতে কোপ দেয়। পরনের পাঞ্জাবিটা টেনেহিঁচড়ে ছিঁড়ে ফেলে। পকেটে ব্যবসার এক লাখ ৬৫ হাজার টাকা ছিল, এগুলো ছিনিয়ে নেয়।
“খবর পেয়ে আমার এলাকার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওদের বাড়িতে হামলা চালায়। তবে বিয়ে বাড়িতে হামলা ওই এলাকার লোকজনেই চালিয়েছে। যেন আমাদের ওপর দোষটা আসে।”
ওসি রবিউল আযম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। এমনকি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ফুচকা খাওয়া নিয়ে প্রতিপক্ষের গ্রামে গিয়ে হামলা-আগুন, বাদ গেল না বিয়েবাড়িও