Published : 31 May 2026, 09:22 PM
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ফুচকা খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গ্রামে গিয়ে অন্তত ২০টি বাড়িতে হামলা এবং শতাধিক খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় ওই গ্রামের একটি বিয়েবাড়িতে হামলা করে খাবার-দাবার ফেলে দেওয়া হয়।
রোববার দুপুরে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের চরআলগী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আযম জানান।
এ ঘটনার পর ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তবে পরিবেশ এখনও উত্তপ্ত।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, কোরবানির ঈদের দিন বিকালে উপজেলার মরিচারচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে যান লোকজন। সেখানে ফুচকাসহ অন্যান্য খাদ্য বিক্রি হচ্ছিল।
এ সময় মরিচারচর এলাকার কয়েকজন কিশোর একটি দোকানে গিয়ে ফুচকার অর্ডার দেয়। একই সময় একই দোকানে চরআলগী গ্রামের কয়েকজন কিশোরও গিয়ে ফুচকার অর্ডার দেয়।
দোকানদার চরআলগী গ্রামের কিশোরদের মধ্যে আগে ফুচকা সরবরাহ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয় মরিচারচর গ্রামের কিশোররা। এ নিয়ে চরআলগী ও মরিচারচর গ্রামের কিশোরদের মধ্যে বাগবিতণ্ডায় ও হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে দুপক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পরে দুপক্ষকে ডেকে ঘটনাটি মীমাংসা করে দেন মরিচারচর গ্রামের মৃত চাঁন মিয়ার ছেলে মো. ইব্রাহিম মিয়া।

কিন্তু রাতে ইব্রাহিমকে উচাখিলা বাজারে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার জের ধরে রোববার দুপুরে মরিচারচর গ্রামের ইব্রাহিমের সমর্থকরা দলবেঁধে চরআলগী গ্রামে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় গ্রামের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় শতাধিক খড়ের গাদায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এদিন চরআলগী গ্রামের হতদরিদ্র নাজিম উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। কিন্তু হামলাকারীরা বিয়ে বাড়িতে গিয়ে রান্না করা খাবার ফেলে দেয়, থালা-বাসন ভাঙচুর করে এবং অতিথিদের বসার স্থান তছনছ করে দেয়।

নাজিম উদ্দিনের ভাই আলাল উদ্দিন বলেন, “বিনা কারণে এমন ঘটনার পর ভাই পাগলপ্রায়। বর আসার আগে এমন ঘটনায় আমরা সবাই হতভম্ব। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।”
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আযম বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”