Published : 18 Sep 2025, 09:58 AM
নরসিংদী সদর উপজেলার চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচ জন।
বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে নরসিংদী সদর থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, আলোকবালী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধূরী ও বহিষ্কৃত সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটেছে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীও রয়েছেন।
নিহত ইদন মিয়া (৫৫) ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামের বাসিন্দা। আহতদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শাহ আলম চৌধূরী ও আব্দুল কাইয়ুম মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ বাড়ে। এরপর থেকে পৃথকভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করছিলেন বিএনপির দুই নেতা।
এসব বিরোধের জেরে কয়েক দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।
এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ছয়জন। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত ইদন মিয়াকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতরা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলম চৌধূরী বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর বিএনপির বহিষ্কৃত সদস্য সচিব কাইয়ুমের নেতৃত্বে মুরাদনগর গ্রামে অস্ত্র, ভাড়াটে সন্ত্রাসী ও পতিত আওয়ামী লীগের লোকজন দিয়ে হামলা চালায়। তার হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।”
এ বিষয়ে জানতে সম্প্রতি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার হওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাইয়ুম মিয়ার মোবেইলে কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।