Published : 24 Jul 2026, 08:29 PM
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়া হাফিজ উদ্দিন আহমদকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সংসদ সচিবালয়ের সচিব মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
শুক্রবার সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে হাফিজ উদ্দিনের সাফল্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
শুক্রবার স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র পাওয়ার পর সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। পদত্যাগপত্রটি আমি গ্রহণ করেছি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডের সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হল।”

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করবেন।
সংবিধানের ৭৪ (৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, স্পিকার রাষ্ট্রপতির কার্যাবলি পালন করলে ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন। সেই বিধান অনুযায়ী কায়সার কামাল এখন সংসদে স্পিকারের দায়িত্ব সামলাবেন।
পদত্যাগপত্রে সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনির জটিলতায় ভোগার কথা জানিয়েছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ শনাক্ত হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এসব অসুস্থতার কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন বলে পদত্যাগপত্রে লিখেছেন সাহাবুদ্দিন।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সাহাবুদ্দিন। মেয়াদের পৌনে দুই বছর বাকি থাকতেই তিনি পদত্যাগ করলেন।