Published : 23 Mar 2026, 02:18 PM
পাহাড়, অরণ্য, লেক, ঝিরি-ঝর্ণা ও উপত্যকার অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা খাগড়াছড়ি ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
জেলার জনপ্রিয় পর্যটন স্পট-আলুটিলা সুড়ঙ্গ, ঝুলন্ত ব্রিজ, তারেং, রিছাং ঝর্ণা, মায়াবিনী লেক ও মানিকছড়ি ডিসি পার্কে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
সবুজ পাহাড়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে।

পরিবার নিয়ে প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়ি ভ্রমণে এসে রিছাং ঝর্ণা ও তারেং ঘুরে আলুটিলা পাহাড় থেকে পাখির চোখে শহর দেখা এবং রোমাঞ্চকর গুহা ভ্রমণ সানজিদা করিমের কাছে অত্যন্ত উপভোগ্য মনে হয়েছে।
সানজিদা বলেন, “বাবা ও মায়ের সঙ্গে এই প্রথম খাগড়াছড়ি এলাম। সব মিলিয়ে খুব ভালো লেগেছে। আলুটিলা পাহাড় থেকে পুরো শহর পাখির চোখে দেখা যায়।”

প্রকৃতি পুরোপুরি সবুজ না হওয়ায় এবং ঝরনায় পানির পরিমাণ কম থাকায় আলুটিলা ভ্রমণে আসা ফাহমিদা হক ও জাহিদুল মতিনের কাছে এবারের পাহাড়ের রূপ কিছুটা রুক্ষ মনে হয়েছে।
ফাহমিদা বলেন, “আমরা ঈদের প্রথম দিনই খাগড়াছড়ি এসেছি। এরপর সাজেকে এক রাত ছিলাম। এখন একটু রুক্ষ সময়। প্রকৃতি পুরোপুরি সবুজ হয়নি। তারপরও প্রচুর ভিড় সেখানে।
আর জাহিদুল বলছিলে, “তাপমাত্রা কম থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে ভ্রমণ করেছি। এ সময়ে ঝর্ণায় পানি কিছুটা কম।”

ঢাকা থেকে আসা আরেক পর্যটক শরীফুল ইসলাম টানা বন্ধে খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্রমণ করেছেন। পাঁচ বছর পর খাগড়াছড়িতে এসে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র ও জেলা পরিষদ পার্কের পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন তিনি।
শরীফুল বলেন, পুরো ভ্রমণটি তার কাছে উপভোগ্য লেগেছে।
পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ায় খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। খাগড়াছড়ির অভিজাত আবাসিক হোটেল ‘গাইরিংয়ের’ ব্যবস্থাপক প্রান্ত ত্রিপুরা বলেন, “আমাদের হোটেলে ৪০টির বেশি কক্ষ আছে।
“ঈদের পরদিন থেকে আমাদের হোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং আছে। আগামী শুক্র-শনিবার পর্যন্ত পর্যটকদের এমন ভিড় থাকবে।”

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক চন্দ্র কিরণ ত্রিপুরা বলেন, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে। প্রতিদিন আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে চার থেকে পাঁচ হাজার দর্শনার্থী আলুটিলা ভ্রমণ করছেন।”
এদিকে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বদা সতর্ক থাকার পাশাপাশি যেকোনো বিপদে সব সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের উপ-পরিদর্শক নিশাত রায় বলেন, “পর্যটকদের কোনো ধরনের সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকায় পর্যটকেরা ভ্রমণে গিয়ে যদি কোনো বিপাকে পড়ে সেক্ষেত্রে তারা যদি ৯৯৯-এ কল দেয়, আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করতে পারব।”