Published : 29 Jul 2024, 05:18 PM
অবিলম্বে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলগুলো খুলে দেওয়াসহ নয় দফা দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা।
সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় এ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এ সময় ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘মানতে হবে মানতে হবে, ৯ দফা মানতে হবে’- স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা।
প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা তাদের এই কর্মসূচি চলে। এ সময় অরাজক পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে কয়েকজন শিক্ষকও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে উপস্থিত হন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ ও সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জামিলুর ইসলাম ছিলেন।

শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকাসহ যত জায়গায় শহীদ হয়েছে সেখানকার ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে। দেশব্যাপী যেসব শিক্ষার্থী ও নাগরিক শহীদ ও আহত হয়েছে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
এছাড়া অবিলম্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলগুলো খুলে দিতে হবে এবং কোটা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে বলেও শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক ফুয়াদ উল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে ফ্যাসিবাদ বিরোধী স্লোগান দিচ্ছে, হাতে লাঠি তুলে নিয়েছে, হত্যার মিছিলেও লড়াই থেকে পিছপা হয়নি। নয় দফা দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলবে।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বলেন,“এই মূহুর্তে আমরা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছি। নতুন করে আর কোনো মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু যারা ন্যায়ের পক্ষে, ন্যায্যতার পক্ষে তারাই আজকের মুক্তিযোদ্ধা।
“যারা মানুষের অধিকার হরণ করে, যাদের কাছে মানুষের রক্তের দাম নেই, যারা ন্যায় বিচারের পক্ষে নয়, তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবাদী কথা একেবারে বেমানান। এই চেতনাবাদ বন্ধ হোক এবং প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।"