বরগুনায় অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

বরগুনার পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, বরিশালের বাস মালিকদের বাধায় তারা ঢাকার পথে বাস চালাতে পারছেন না।

বরগুনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Sept 2022, 07:48 AM
Updated : 19 Sept 2022, 07:48 AM

বরগুনা-বাকেরগঞ্জ সড়কে ঢাকার বাস চালানোর দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন বরগুনার পরিবহন মালিকরা।

সোমবার ভোর ৬টা থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা। অনেকেই বাস ধর্মঘটের কথা না জেনে টার্মিনালে এসে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ আবার বিকল্প পথে ঢাকায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

বরগুনা জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন সাবু বলেন, “বহু বছর ধরে বরগুনা-বাকেরগঞ্জ রুটে যানবাহন চলাচল করেছে। কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই বরিশালের বাস মালিক সমিতির নেতারা এই রুট দিয়ে ঢাকা-বরগুনা বাস চলাচলে বাধা দিচ্ছে।“

তিনি বলেন, পরিবহন নেতাদের বাধার কারণে বাসগুলো পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ এবং বরগুনা জেলার আমতলী ফেরি পার হয়ে বরগুনা থেকে ঢাকা এবং ঢাকা থেকে বরগুনা যাওয়া-আসা করছে। তাতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে তিন-চার ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে; পদ্মা সেতুর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বরগুনার মানুষ।

“এই রুটের (বরগুনা-বাকেরগঞ্জ) চালক-শ্রমিকদের মারধরও করা হয়েছে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।”

অভিযোগের বিষয়ে বরিশালের বাস মালিক সমিতির নেতাদের কারও বক্তব্য জানা যায়নি।

ধর্মঘটের কারণে রোববার সকাল থেকে জেলার পৌর টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। কাউন্টারগুলোর সামনে কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়েও স্লোগান দিতে দেখা গেছে শ্রমিকদের।

বাস বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়া ঢাকাগামী যাত্রী আবুল কালাম, জাহাঙ্গীর, জাকারিয়া জানান, ধর্মঘটের কথা তাদের জানা ছিল না, টার্মিনালে এসে দেখেন বাস চলবে না।

ঢাকাগামী যাত্রী হেমায়েত উদ্দিন বলেন, “পদ্মা সেতু হয়েও আমরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত। মালিক পক্ষের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা সাধারণ যাত্রীরা। আমি ঢাকায় থাকি, জরুরি কাজে বাড়িতে এসেছিলাম। এখন সময় নষ্ট করে লঞ্চে ফিরতে হবে।”

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বরগুনার বাস চলাচলে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তিনি জেনছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলেচনা করে তারা সমাধানের চেষ্টা করবেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক