০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

মাদারীপুরে ভেসে এসেছে বিপন্ন গঙ্গা শুশুক

এরা সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে বলে জানান মাদারীপুর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অজয় কুমার কুণ্ডু।

মাদারীপুরে ভেসে এসেছে বিপন্ন গঙ্গা শুশুক

ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Nov 2026, 11:10 PM

Updated : 02 Nov 2026, 11:12 PM

মাদারীপুরের নিম্ন কুমার নদে ভেসে এসেছে বিপন্ন গঙ্গা শুশুক।

সোমবার বিকালে সদর উপজেলার রাস্তি ইউনিয়নের কাঠপট্টি সেতুর কাছে একদল কিশোর ও তরুণ নদে গোসল করতে গিয়ে মৃত গঙ্গা শুশুকটি দেখতে পায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, তারা শুশুকটি ডাঙ্গায় এনে ছবি তুলে আবার নদে ভাসিয়ে দেয়। পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে।

প্রাণী বিষেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী। গঙ্গা শুশুকের পৃষ্ঠ আয়তাকার, খাঁজযুক্ত পৃষ্ঠপাখনা থাকে এবং স্ত্রী প্রাণী সাধারণত পুরুষের তুলনায় বড় হয়। গঙ্গা শুশুকের গায়ের রং সাধারণত হালকা বাদামি, চকলেট বাদামি, গাঢ় ধূসর বা হালকা নীলাভ হয়।

নদীর শুশুকের মতোই এদের দীর্ঘ, সরু মুখ এবং ধারালো ও সূচালো দাঁত রয়েছে। অন্যান্য ডলফিনের তুলনায় অপেক্ষাকৃত এদের স্থুল দেখায়। এদের পাখনা ও লেজের পাখা বড় ও প্রশস্ত।

এদের মাথায় বড় আকৃতির মেলন অঙ্গ থাকে, যা প্রতিধ্বনিভিত্তিক স্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়, কারণ এরা ভালোভাবে দেখতে পারে না। ঘোলা পানির কারণে এদের চোখ সাধারণত ছোট হয়ে থাকে।

গঙ্গা শুশুক সাধারণত ২.২-২.৬ মিটার (৭-৮ ফুট) লম্বা হয়। এরা সর্বোচ্চ ৩০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে বলে জানান মাদারীপুর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অজয় কুমার কুণ্ডু।

তিনি বলেন, এই প্রাণীটি জেলেদের বিভিন্ন জালে ধরা পড়ে গুরুতর আহত হয়। কিছু কিছু সময়ে এদের শিকারও করা হয়। এই প্রাণীর তেল দিয়ে এক শ্রেণীর লোক কবিরাজী ব্যথানাশক ওষুধ তৈরি করে।

মাদারীপুর ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “ছবিটি দেখে আমরা বুঝতে পারছি, এটি একটি গাঙ্গেয় প্রজাতির গঙ্গা শুশুক। এই প্রাণীটি পৃথিবীর বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। কেউ আমাদের জানালে আমরা শুশুকটি উদ্ধার করে মৃত্যুর কারণ উদঘাটন করতে পারতাম।”

তিনি বলেন, “জালে আটকা পড়ে অনেক সময় এই প্রাণী আহত হয়। অনেক সময় বেশি গুরুতর আহত হলে সে মারাও যায়। এটিকে রক্ষা করতে জনসচেতনতা আরো বেশি প্রয়োজন।”