Published : 30 Jun 2025, 10:41 AM
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার এক মসজিদে জুমার খুতবায় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় এক ইমামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ইমামের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার দুই দিন পর রোববার বিকালে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান হরিরামপুর থানা ওসি মুহাম্মদ মুমিন খান।
সোমবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের জুয়েল খানের ছেলে মো. জুলহাস (২২) এবং রায়হান (১৯)।
ওসি মুমিন খান বলেন, ফরিদপুর সদর উপজেলার বড় কামদিয়া এলাকার কবির শেখের ছেলে মুফতি মিরাজুল ইসলাম আট মাস আগে হরিরামপুর উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মধ্যপাড়া জামে মসজিদে ইমামতি শুরু করেন। মাঝে মধ্যে জুমার খুতবায় মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে কথা বলতেন তিনি। এতে স্থানীয় কিছু যুবকের রোষানলে পড়েন তিনি।
“এর মধ্যে মিরাজুল মসজিদ কমিটির কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। গত শুক্রবার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে জুলহাস ও রায়হান তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন।”
মিরাজুল ইসলাম বলেন, “জুমার নামাজের বয়ানে মাদকের ভয়াবহতা, কুফল ও ইসলামে মাদক ব্যবহারের শাস্তি বিষয়ে কথা বলায় স্থানীয় কিছু যুবক অনেকদিন আগে থেকেই আমার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। বিষয়টি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. জুলমত খাঁকে অবগত করাই।
“ইমামতির শেষ দিন শুক্রবার হামলাকারীরা আগে থেকেই আমাকে নজরদারিতে রেখেছিল। বাড়ি ফেরার পথে তারা আমাকে গতিরোধ করে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং পাঁচ হাজার টাকা কেড়ে নেয়।”
এ ঘটনায় প্রথমে মানিকগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে এবং পরবর্তীতে রোববার হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মিরাজুল ইসলাম।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জুলমত খাঁ বলেন, ব্যক্তিগত কারণে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ইমাম মিরাজুল ইসলাম। ঘটনার দিন বাড়ি ফেরার পথে তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়া ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছেন তিনি।
তবে জুমার নামাজের বয়ানে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় কেউ ক্ষিপ্ত ছিল, সে বিষয়ে জানালে মসজিদ কমিটি ব্যবস্থা নিত বলে দাবি করেন জুলমত খাঁ।
ওসি মুমিন খান বলেন, ইমামের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় রোববার মামলা কারা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনকে আদালতে পাঠানো হবে।