ভোটার আনবেন প্রার্থী, নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ইসি হাবিব

অতীতের ভুল-ত্রুটি শুধরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি উদাহরণ হিসেবে রেখে যেতে চান ইসি আহসান হাবিব খান।

বরিশাল প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Nov 2023, 01:28 PM
Updated : 26 Nov 2023, 01:28 PM

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, “কেন্দ্রে ভোটার আনার দায়িত্ব প্রার্থীদের। আর ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।” 

রোববার বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। 

আহসান হাবীব বলেন, “আপনারা (সাংবাদিক) একটি প্রশ্ন করেছেন, কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে। ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করার দায়িত্ব কিন্তু প্রার্থীদের। 

“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হচ্ছে ভোটারদের নিরাপত্তা দেওয়ার। যেন ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারে। নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন। এসে যেন শুনতে না হয়, ভোট দেওয়া হয়ে গেছে।” 

তিনি বলেন, “কমিশন একটি নির্বাচনের আয়োজন করে। সহায়তা করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন। সবচেয়ে বেশি সহায়তা করেন সাংবাদিকরা। আমরা যা বলি তা আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। 

“আপনাদের প্লাটফর্ম ছাড়া আমরা মানুষের কাছে পৌঁছতে পারতাম না। আপনারা যেটাই করেছেন, সঠিক কাজটি করেছেন। নেগেটিভ হলে নেগেটিভ, পজেটিভ হলে পজেটিভ করেছেন।” 

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও চ্যালেঞ্জ কেমন তা দেখতে এসেছেন বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার। 

তিনি বলেন, “এসে সবার সঙ্গে কথা বলেছি, বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন, ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার, ডিজিএফআই; সবার নাম বলছি না। সবাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।” 

ইসি আহসান হাবীব বলেন, “আমাদের আইনে আছে, ডিসিরা রিটানিং কর্মকর্তাকে সহায়তা করবেন। কিন্তু দেখেন, ডিসিরা নিজেই রিটার্নিং কর্মকর্তা। তারা টু ইন ওয়ান। তাদের সহকারী ইউএনওরা। তারা প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগ দেন। 

“অতীতেও তারা তাদের দায়িত্ব শতভাগ ও সুচারুভাবে করেছেন। তারা কিন্তু পরীক্ষিত। হান্ড্রেড পার্সেন্ট কন্ট্রোল সুন্দরভাবে করে এসেছে, এবারো করবেন ইনশাল্লাহ। না করলে আপনারা তো রয়েছেন। ভালো করলেও বলবেন, খারাপ করলেও বলবেন।” 

নির্বাচন কমিশনার বলেন, “ভোটের দিনটা কিন্তু আমরা মনে রাখব। উৎসবমুখর পরিবেশে মা-বোন-দাদিরা ভোট দিতে আসবেন।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা দাঁড়িয়ে থাকবেন। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করবেন, কেমন ভোট দিয়েছেন। সেটা প্রচার করবেন।” 

বিএনপিকে আবারও নির্বাচনে আসার আহ্বান জানিয়ে আহসান হাবিব খান বলেন, “নির্বাচনে আসতে তাদের অনেক অনুরোধ জানিয়েছি। এখনো বলছি, সাংবাদিকদের সামনে রেকর্ডেট, এই নির্বাচন আগামী প্রজন্মের কাছে উদাহরণ হবে, এমন নির্বাচন আমরা উপহার দেব। এখনো সুযোগ আছে আপনারা (বিএনপি) নির্বাচনে আসুন।” 

অতীতের ভুল-ত্রুটি শুধরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে একটি উদাহরণ হিসেবে রেখে যেতে চান বলে জানান আহসান হাবিব খান। 

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান। 

সভায় নির্বাচনি আচরণবিধির যথাযথ প্রয়োগ ও প্রতিপালনের বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য না দেখাতে বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী সভাপতিত্ব করেন।

এতে বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলার জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উপজেলা, জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর স্থানীয় কর্মকর্তারা ছিলেন। 

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তাদের প্রতি নির্বাচনে শতভাগ নিরপেক্ষ আচরণ করার নির্দেশ দেন নির্বাচন কমিশনার আহসান হাবিব খান । 

পাশাপাশি সব ধরনের পেশিশক্তি, অর্থশক্তি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের চেষ্টা প্রতিরোধ, ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। 

সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতিসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। 

আলোচনায় ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তারক্ষীদের দায়িত্ব পালনের বিভিন্ন দিক, সঠিক ভোটার চিহ্নিতকরণ, গণমাধ্যমকর্মীদের বৈধ দায়িত্ব পালনে সহায়তা, প্রত্যন্ত দ্বীপ ও চরাঞ্চলের দুর্গম নদীবিচ্ছিন্ন ভোট কেন্দ্রগুলোতে সময়মতো নির্বাচন সামগ্রী পাঠানো, রক্ষণাবেক্ষণ ও ফেরত নেওয়া, বিদ্যুৎবিহীন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলোতে পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ সংশ্লিষ্ট সবগুলো সরকারি দপ্তরের মাঝে যথার্থ সমন্বয়সাধন করে অপ্রতুল জনবলের পাশাপাশি যাবতীয় ভূপ্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার মধ্য দিয়ে একটি স্বতঃস্ফূর্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক উঠে আসে।