Published : 11 May 2026, 08:03 PM
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচির পালন করেছেন শিক্ষকের একটি অংশ। এ সময় প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এতে দিনভর স্থবির ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
তবে অন্যের কাজে বাধা দেওয়া এবং কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী বলে জানিয়েছেন উপাচার্য।
আগের দিনের ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সকাল ৯টায় আন্দোলনকারী ‘শিক্ষক সমাজ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১ এর নিচতলায় অবস্থান নেন বলে জানান জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাফিজ আশরাফুল হক।
এ সময় তারা উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
এক ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচির পর শিক্ষকদের একটি অংশ রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যকে অসহযোগিতা করার নির্দেশ দেন। এক পর্যায়ে চাপের মুখে রেজিস্ট্রার তার কার্যালয় ত্যাগ করেন। এরপর কর্মচারীরা একে একে বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন।

একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে চাপ দেওয়া হয় এবং তিনিও দপ্তর ছেড়ে বের হয়ে গেলে শিক্ষকদের নির্দেশে কর্মচারীরা দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন।
রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তালা দেওয়া নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল কাইউম বলেন, তাদের নির্দেশে প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে তালা ঝোলানো হয়।
তালা ঝোলানোর সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, শিক্ষকদের নির্দেশে তালা ঝুলিয়েছেন তারা।
তবে দপ্তরের তালা দেওয়া ও শিক্ষকদের চাপের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একটি দপ্তরের প্রধান বলেন, “এভাতে তারা এটা করতে পারেন না। তারা আমাদের অফিসে এসে জোরপূর্বক বের করে দিয়ে তালা দিচ্ছেন। তাদের আন্দোলন সফল হোক সেটা আমরাও চাই, কিন্তু এভাবে জোরপূর্বক কিছু আমরা চাই না।”
আন্দোলনকারী শিক্ষক ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ধীমান কুমার রয় বলেন, “উপাচার্যকে আমরা প্রশাসনিকভাবে কোনও সহযোগিতা করব না। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকরা পদত্যাগ করছেন।
“ইতোমধ্যে তিনজন পদত্যাগ করেছেন। পদোন্নতি বোর্ড বসানোর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও উপাচার্য বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছেন। তাই আমরা আর তাকে প্রশাসনিক সহযোগিতা করব না।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, “সব বিষয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করে এ ধরনের আন্দোলন সমীচীন নয়।
“কেউ আন্দোলন করলে ব্যক্তিগতভাবে কর্মবিরতি পালন করতে পারে। তবে অন্যের কাজে বাধা দেওয়া এবং কাউকে কাজ থেকে বিরত রাখা সম্পূর্ণ আইনবিরোধী।”
এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন উপাচার্য।
আরও পড়ুন-
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় 'শাটডাউন', উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অসহযোগের ডাক, হুঁশিয়ারি উপাচার্যের
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ক্লাসে ফিরছেন, তবে 'অসহযোগ' চলবে