Published : 28 Apr 2026, 11:32 PM
পদোন্নতিসহ অন্যান্য দাবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষকরা এবার উপাচার্যের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম বলেছেন, তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়ার পর পরই উপচার্য এই হুঁশিয়ারি দেন।
দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক হাফিজ আশরাফুল হক, অধ্যাপক রাহাত হোসাইন ফয়সাল, অধ্যাপক মো. মুহসিন উদ্দিন, অধ্যাপক ইসরাত জাহান লিজা, অধ্যাপক ধীমান কুমার রায় উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আপগ্রেডেশন নীতিমালা অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যভাগেই অনেক শিক্ষক প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক এবং সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কিন্তু তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক শুচিতা শরমিন তার মেয়াদকালে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেননি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ মে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মোহাম্মদ তৌফিক আলম। ততদিনে আরও অনেক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জন করেন। তারা বারবার আবেদন জানালেও উপাচার্য নানা টালবাহানায় প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করতে থাকেন।
শিক্ষকরা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী কোনো শিক্ষক পদোন্নতির যোগ্যতা অর্জনের পর ৪৫ দিনের মধ্যে আপগ্রেডেশন বোর্ডের সভা আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে উন্নীত করার জন্য বোর্ড সভা শুরু করা হয়। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ড সভার পরপরই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে সুপারিশ অনুমোদন দেওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্য সেটিও বিলম্বিত করেন। একই সঙ্গে সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত করার বোর্ড সভাও আয়োজন করা হয়নি।

শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২২ এপ্রিল কর্মবিরতি, ২৩ এপ্রিল কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন। পরে রোববার থেকে মঙ্গলবার তারা ক্লাসে না ফিরলেও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন।
শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলনের পর পরই দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসভবনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলম। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখবেন না। আমি শিক্ষকদের অনুরোধ করব, এই কর্মকাণ্ড থেকে তারা যেন বিরত থাকেন এবং ক্লাস-পরীক্ষা চালু করেন। যদি এই ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকে, তাহলে আইনে যেভাবে লেখা আছে সেভাবেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষকদের পদোন্নতি দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু পদ না থাকায় সরাসরি পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ইউজিসি থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যেসব অধ্যাপক পদ নেই সেগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং সেই পদে নিয়োগের মাধ্যমে পদোন্নতি কার্যকর করা হবে।”
এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণে সময় লাগবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, তিনি ডিনদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করেছেন এবং সংবাদ সম্মেলনের আগে বসে সমাধান খুঁজতে অনুরোধও করেছিলেন। কিন্তু শিক্ষকরা সে আলোচনায় অংশ না নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে এখনো আলোচনার সুযোগ আছে এবং শিক্ষকরা চাইলে প্রতিনিধি দল নিয়ে ইউজিসির সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।