Published : 19 Dec 2024, 11:42 PM
গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে তাবলীগ জামাতের দুই পক্ষের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাওলানা জুবায়ের অনুসারী এস এম আলম হোসেন বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় মামলাটি করেন বলে জানান গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান।
মামলায় ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকশ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বৃহস্পতিবার ইজতেমা মাঠের বিভিন্ন স্থানে কিছু মানুষকে অবস্থান করছেন। তাদের দাবি, কাঁথা, বালিশসহ বিভিন্ন মালামাল পাহারা দিতে মাঠে আছেন তারা।
এ ছাড়া ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। তবে মাঠের ভেতর কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
ইজতেমা ময়দানের পাশে স্টেশন রোডের মোড়, মুন্নু গেইট-কামারপাড়া সড়ক, ইজতেমা মাঠে প্রবেশের গেইটসহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছেন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। এ সময় কিছু মুসল্লিকেও বাঁশ হাতে ইজতেমা মাঠে প্রবেশের বিভিন্ন গেইটে পাহারা দিতে দেখা গেছে।
মাঠে থাকা এক ব্যক্তি জানান, মাঠে অবস্থানকারীরা সবাই মাওলানা জুবায়ের অনুসারী। মাওলানা সাদ অনুসারীরা মাঠ খালি করে দেওয়ার পর বুধবার রাতে তারা ইজতেমা মাঠে এসেছেন। তারা নিজেদের ইজতেমা ময়দানের জিম্মাদার বলে দাবি করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে ‘মুরুব্বিদের’ নির্দেশে ইজতেমা ময়দানের যাবতীয় মালামাল পাহারা দিতে বিভিন্ন জামাতভুক্ত প্রায় ৫০০ সাথি মাঠে অবস্থান করছেন বলে জানান ওই ব্যক্তি।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (দক্ষিণ) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই পক্ষের সভা শেষে মাঠে থাকা মালামাল পাহারা দেওয়ার জন্য জুবায়ের অনুসারীদের ৫০০ লোক থাকার সিদ্ধান্ত হয়। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা মাঠে অবস্থান করছেন।
তবে মাঠ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে বুধবার দুপুরে ময়দানে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে পুলিশের গণবিজ্ঞপ্তি জারির পর সাদ অনুসারীরা ইজতেমা মাঠ ত্যাগ করেন।
তবে মাওলানা সাদ অনুসারীদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক মোহাম্মদ সায়েম বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইজতেমা ময়দান প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই সরকার জুবায়ের অনুসারীদের মাঠ বুঝিয়ে দিয়েছেন। তারা পাহারার নামে ঠিকই মাঠে অবস্থান করছেন। এটা আমাদের প্রতি বৈষম্য করা হয়েছে।”
শুক্রবার ইজতেমা মাঠে মাওলানা সাদের অনুসারীরা পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা পালন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু মাওলানা জুবায়ের অনুসারীরা সাদপন্থিদের মাঠে জোড় পালন করতে দেবেন না বলে ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
এরই জেরে বুধবার ভোরে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের চারজন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন।
এ ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
এতিকে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে জুবায়ের অনুসারীদের ওপর হামলা ও হতাহতের ঘটনায় সাদ অনুসারীদের দায়ী করে তাদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শিবাবাড়ি-শিমুলতলী সড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি ইস্কান্দর হাবিবুবুর রহমান জানান, ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনায় রাত ৯টার দিকে একটি হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তবে তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি।
ফাঁকা ইজতেমা ময়দান প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে
খালি হচ্ছে ইজতেমার মাঠ, নিরাপত্তা জোরদার
টঙ্গীতে ইজতেমা ময়দানে তাবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ৩
ইজতেমা মাঠে প্রবেশে মানা, মিছিল-জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা