বুধবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
Published : 18 Dec 2024, 03:18 PM
তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার প্রেক্ষাপটে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ ঘিরে তিন কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং দুই জনের বেশি জমায়েত হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ।
সেই সঙ্গে ইজতেমা মাঠে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ।
বুধবার গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার নাজমুল করিম খান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানিয়ে বলা হয়, দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।
এছাড়া ওই এলাকায় কোনো ধরনের অস্ত্র, ছুরি, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য বা এ জাতীয় কোনো পদার্থ বহন করা যাবে না এবং লাউড স্পিকার বা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র দ্বারা উচ্চস্বরে কোনো শব্দ করা যাবে না।
নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়েছে গণবিজ্ঞপ্তিতে।
এটিকে টঙ্গীর লাগোয়া ঢাকা মহানগর পুলিশের আওতাধীন এলাকাকেও একই ধরনের বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ বলেছে, বুধবার দুপুর ২টা থেকে কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা সেক্টর-১০ এবং তৎসংলগ্ন তুরাগ নদীর দক্ষিণ পশ্চিম এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে।
তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা মাঠ দখলকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে সংঘর্ষে জড়ায় তাবলিগ জামাতের মাওলানা জুবায়ের আহমদ ও দিল্লির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা।
তাতে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন বলে গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার মো. নাজমুল করিম খান জানিয়েছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি হাবিব ইস্কান্দার বলেন, মঙ্গলবার ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করছিলেন মাওলানা জুবায়ের আহমদের অনুসারিরা। পরে মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারিরা তুরাগ নদীর পশ্চিম তীর থেকে কামারপাড়া ব্রিজসহ বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে ইজতেমা ময়দানে প্রবেশ করতে থাকেন।
সে সময় মাঠের ভেতর থেকে জুবায়ের অনুসারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে শুরু করে। জবাবে সাদের অনুসারীরাও পাল্টা হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে সাদপন্থিরা মাঠে প্রবেশ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাসদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাবলিগের দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। দুই পক্ষকেই টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ খালি করে দিতে বলা হয়।