Published : 03 Aug 2025, 02:26 PM
নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের একটি সংসদীয় আসন বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
রোববার সকালে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কের শহরের দশানী ট্রাফিক মোড়ে এই প্রতিবাদ সমাবেশে বিভিন্ন দলের বিপুল নেতাকর্মীকে যোগ দিতে দেখা যায়।
সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান বলেন, “বাগেরহাট ঐতিহাসিক জেলা। এখানে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ষাটগম্বুজ মসজিদ, ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোংলা সমুদ্র বন্দর রয়েছে।
“অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই জেলা জাতীয় অর্থনীতিতে ভূমিকা রেখে চলেছে কিন্তু নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাতে বাগেরহাটের লক্ষলক্ষ মানুষ ফুঁসে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ‘আত্মঘাতি-আগুন নিয়ে খেলার সামিল’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিয়ে বাংলাদেশকে বাগেরহাট থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়াসহ অচল করে দেওয়া হবে।”
সমাবেশে বক্তব্য আরও বক্তব্য দেন- বাগেরহাট জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম, জামায়াত ইসলামীর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা ইউনুস আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে বাগেরহাটে চারটি আসনকে পুনর্বহালের দাবি জানান নেতারা। তা নাহলে আগামীতে আরও বৃহৎ কর্মসূচি দেওয়া হবে সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
এদিকে সমাবেশ চলাকালে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পরে তারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টা কাছে স্মারকলিপি দেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটি।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে গঠিত তিন নম্বর সংসদীয় আসনটি ভেঙে দিয়ে দুই ও চার নম্বর সংসদীয় আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার খসড়া অনুমোদন দেয়।
এরপর বৃহস্পতিবার থেকেই জেলার বিএনপি, জামায়াত ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আসন পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন