স্বতন্ত্র প্রার্থীকে পেটানোর হুমকি: সেই ছাত্রলীগ নেতাকে অনুসন্ধান কমিটির শোকজ

শোকজ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নরসিংদীর ওই নেতার কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি।

নরসিংদী প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Nov 2023, 06:26 PM
Updated : 30 Nov 2023, 06:26 PM

নরসিংদী-১ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর মতবিনিময় সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে পেটানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সেই ছাত্রলীগ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নরসিংদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমনকে শোকজ করেন নরসিংদীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ এবং নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির সদস্য নাহিদুর রহমান নাহিদ। 

এ ছাড়া ওই নেতার বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে শোকজ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে অনুসন্ধান কমিটি।
শোকজে উল্লেখ করা হয়েছে, “বুধবার দুপুরে নরসিংদী ক্লাব লিমিটেডের মিলনায়তনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-১ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলামের নৌকা প্রতীককে বিজয়ের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা হয়। 

“সেখানে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমন তার বক্তব্যে বলেন, ‘কোন স্বতন্ত্র মতন্ত্র আমরা চিনি না, মাইরের ওপর কোনো ওষুধ নাই। ছাত্রলীগের কোনো পোলাপান স্বতন্ত্ররে মানত না। 

“স্বতন্ত্ররে কেমনে পিডাইতে অয়, হে অই দেহায়সে, হেরে আমরা এমনেই পিডামু। এই শহরের, এই সদরের নির্বাচনি কোনো এলাকায় তাদেরকে (স্বতন্ত্র প্রার্থী) কোনো জায়গা দেওয়া যাবে না।”
ছাত্রলীগ সভাপতি রিমনের দেওয়া এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়; যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (১৯৭২ সনের রাষ্ট্রপতি আদেশ নং ১৫৫) এর ৭৩ ও ৮৪ (ক) এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর ধারা ১১ (ক) এর লঙ্ঘন বলে শোকজে উল্লেখ করা হয়েছে। 

এরই পরিপ্রেক্ষিতে আইন ভঙ্গের কারণে কেন রিমনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না মর্মে নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। 

এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আহসানুল ইসলাম রিমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।   

এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম হিরু আবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। পর্যন্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন চারজন।

এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মোহাম্মদ আলী এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দুইবারের পৌর মেয়র কামরুজ্জামান রয়েছেন। 

আরও পড়ুন:

Also Read: ‘স্বতন্ত্র চিনি না, মাইরের ওপর ওষুধ নাই’